
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষ্যণ নেই। এরই মধ্যে শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি যদি ইরানকে লক্ষ্য করে কোনও রকম প্রত্যাঘাত না করে, তাহলে ইরানও সেই সমস্ত দেশের উপরে নতুন করে আর হামলা চালাবে না। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে ইজরায়েলের উপরে ইরানের হামলার তথাকথিত দুটি ভিডিও।
যেখানে প্রথম ভিডিওতে একটি বহুতল ভবনে আগুন জ্বলতে এবং সেটি থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, নীচ থেকে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন কয়েকজন দমকল কর্মী। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দফতরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য। উদাহরণস্বরূপ, ইরানের পতাকা-সহ ভাইরাল ক্লিপটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, ইসরাইলের মোসাদ হেডকোয়ার্টারস।”
অন্যদিকে দ্বিতীয় ভিডিওতে কোনও একটি তেল শোধনাগার জাতীয় স্থানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। আর জল দিয়ে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে কয়েকটি ছোট রোবট জাতীয় গাড়ি। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি কাতারের তেল শোধনাগারে ইরানের হামলার দৃশ্য। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ক্লিপটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সাবাস ইরান তুমি দেখিয়ে দিলে কাতার গ্যাস / তেল জালানি ফ্যাক্টরি ধ্বংস করে এভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাও।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ দুটির সঙ্গে ইরান-ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং প্রথম ক্লিপটি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসের একটি শাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। অন্যদিকে দ্বিতীয় ক্লিপটি ২০১৬ সালের ২৩ অগস্ট চিনের ডাকিং পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে অগ্নিনির্বাপক রোবটের সাহয্যে মহড়ার দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
প্রথম ভিডিও: ভাইরাল প্রথম ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সংস্থা PTI-এর অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভবনে অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিও-র ক্যাপশন থেকে জানা যায়, সেটি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসের একটি শাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য।
দ্বিতীয় ভিডিও: প্রথমত দ্বিতীয় ক্লিপটি সন্দেহজনক। কারণ ক্লিপটিতে থাকা তেল বা গ্যাসের ট্যাঙ্কারের গায়ে এবং ভিডিও-র ফ্রেমের উপরে আমরি চাইনিজ জাতীয় হরফে কিছু লেখা দেখতে পাই। যা থেকে সন্দেহ তৈরি হয়, ভিডিওটি কাতার বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশের না হয়ে সেটি চিন বা অন্য কোনও দেশের হতেও পারে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ক্লিপটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল চিনের সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা CITIC HIC Kaicheng Intelligence Equipment Co., Ltd-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই একই ভিডিও-র একটি বর্ধিত সংস্করণ পাওয়া যায়।
ভিডিও-র শিরোনাম এবং বিস্তারিত অংশ থেকে জানা যায়, সেটি ২০১৬ সালের ২৩ অগস্ট চিনের ডাকিং পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে অগ্নিনির্বাপক রোবটের সাহয্যে মহড়ার দৃশ্য। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, CITIC HIC Kaicheng Intelligence Equipment Co., Ltd সংস্থাটি চিন সরকারের জন্য ইন্টেলিজেন্ট ইকুইপমেন্ট তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি এখানে উল্লেখ্য, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, সম্প্রতি ইরানের একটি ড্রোন দেশটির মেসাইদের শিল্পনগরের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলের ট্যাঙ্কে এবং অন্য একটি ড্রোন রাস লাফানে অবস্থিত কাতার এনার্জির একটি জ্বালানি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে সেই হামলার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও-র কোনও সম্পর্ক নেই।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, মোসাদের সদর দফতর এবং কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে অসম্পর্কিত ভিডিও।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ইজরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দফতর এবং কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
প্রথম ক্লিপটি হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসের একটি শাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। অন্যদিকে দ্বিতীয় ক্লিপটি চিনের ডাকিং পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে অগ্নিনির্বাপক রোবটের সাহয্যে মহড়ার দৃশ্য।