
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কোনও একটি মন্দির প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে গেরুয়া পোশাক পরিহিত কয়েকজন সাধুকে বেধড়ক মারধর করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ১১০ কোটি হিন্দুর দেশ ভারতে হিন্দু সাধুদের নির্মমভাবে মারধর করেছে জিহাদি মুসলিমরা।
উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “১১০ কোটি হিন্দুর ভারতে কিভাবে সনাতনী সাধুদের লাঠি পেটা করছে জেহাদীরা।” পাশাপাশি, ভিডিও-র ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "১১০ কোটি হিন্দুর ভারতে হিন্দুরা নিরাপদ নয়।"
অন্যদিকে এই একই ভিডিও শেয়ার করে কেউ কেউ দাবি করছেন, বিজেপি বিরোধী মন্তব্য করায় উত্তর প্রদেশের এক আশ্রমে ঢুকে বৃদ্ধ সাধুদের বেধড়ক মারধর করেছে বিজেপির কর্মীরা। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে অপর এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “বিজেপি হিন্দু বাদী দল নয় , এরা হিন্দু দের ব্যবহার করছে উত্তর প্রদেশে বিজেপির গুন্ডারা এক আশ্রমে গিয়ে বৃদ্ধ সাধুদের পিটাচ্ছে , কারণ তারা বিজেপি বিরোধী কথা বলেছিল। বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও ।"
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কিংবা সাম্প্রদায়িক হিংসার সম্পর্ক নেই। আসলে এটি ২০২৬ সালের ১৩ জুন উত্তর প্রদেশের দেউরিয়া জেলার মদনপুরে বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের আধিপত্য, জমির দখল এবং দান বা প্রণামীর ভাগ নিয়ে মন্দিরেরই পুরোহিতদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল প্রথম ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১৪ জুন একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, সেটি উত্তর প্রদেশের দেউরিয়ায় বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দিরে পুজোর প্রণামী বা দান দান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।
এরপর বিষয়টি সম্পর্কে বিষদে জানতে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়। তখন ভাইরাল ক্লিপ এবং এর স্ক্রিনশট-সহ দৈনিক ভাস্কর-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের দেউরিয়া জেলার মদনপুর থানা এলাকায় অবস্থিত বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের। মূলত, চলতি বছরের ১৩ জুন, শনিবার বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের আধিপত্য, জমির দখল এবং দান বা প্রণামীর ভাগ নিয়ে মন্দিরেরই দুই পুরোহিত বশিষ্ঠ গিরি এবং ত্রিপুরারি গিরির গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বশিষ্ঠ গিরির আত্মীয় ও সমর্থকরা ত্রিপুরারি গিরি এবং তার সঙ্গীদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের তরফে মদনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পাশাপাশি, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে এরপর আমরা মদনপুর থানার এসএইচও নন্দ প্রসাদ, আজ তকের দেউরিয়া জেলা সাংবাদিক রামপ্রতাপ সিং এবং বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দিরের পুরোহিত ত্রিপুরারি গিরির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা সকলেই আজতক ফ্যাক্ট চেককে এই একই তথ্য প্রদান করেন। এসএইচও নন্দ প্রসাদ জানান, “ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কিংবা সাম্প্রদায়িক হিংসার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বাবা মহেন্দ্রনাথ মন্দিরের প্রণামীর ভাগ নিয়ে মন্দিরেরই পুরোহিতদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য। আমরা এই ঘটনায় জড়িত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছি।” অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত ত্রিপুরারি গিরি জানান, “বশিষ্ঠ গিরি ও তাঁর আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আমরা তার প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের মারধর করেছে।”
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, সাম্প্রদায়িক কিংবা রাজনৈতিক হিংসার রঙ দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে উত্তর প্রদেশের মন্দিরে পুরোহিতদের বিবাদের ভিডিও।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারতে হিন্দু সাধুদের নির্মমভাবে মারধর করেছে জিহাদি মুসলিমরা।
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কিংবা সাম্প্রদায়িক হিংসার সম্পর্ক নেই। বরং সেটি উত্তর প্রদেশের দেউরিয়া জেলায় বাবা মহেন্দ্রনাথ শিব মন্দিরের আধিপত্য, জমির দখল এবং প্রণামীর ভাগ নিয়ে মন্দিরেরই পুরোহিতদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।