Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: বিধানসভায় BJP বিধায়কের সঙ্গে বিবাদে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকরারের সময়ের নয়। বরং সেটি ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই বিধানসভায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাকবিতণ্ডার দৃশ্য।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 03 Jun 2026,
  • अपडेटेड 8:50 AM IST

পালা বদলের বাংলায় সদ্য ক্ষমতায় এসেছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বিজেপি নেতা তথা সদ্য নির্বাচিত বংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। সরাসরি উল্লেখ করা না হলে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলায় বিজেপি সরকার এখন পর্যন্ত একমাসও হয়নি, এর মধ্যে বিধানসভায় এক বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটির ফ্রেমের উপরে লিখেছেন, “বিজেপি শেষ, বাংলায় বিজেপি সরকার এখন পর্যন্ত একমাস হয় নি এর মধ্যেই, এ বাবা একি কাণ্ড**গোয়াল ঘরে গুঁতো গুতি শুরু হয়ে গেছে ** অন্ধ ভক্তরা কোথায় আছো বাজাও তালি।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকরারের সময়ের নয়। বরং সেটি ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই বিধানসভায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাকবিতণ্ডার দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সংবাদ প্রতিদিনের অফিশিয়াল ইউটিউভব চ্যানেলে ‘Suvendu Adhikari alleges TMC MLA Tapan Chatterjee heckled him in Assembly Premises’ শিরোনামে এই একই বর্ধিত সংস্করণ পাওয়া যায়। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, ভিডিওটি বাংলার সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকরারের সময়ের নয়। ভিডিও-র বিস্তারিত অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিধানসভার ভেতরেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন পূর্বস্থলীর তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি, সেই বাকবিতণ্ডা পর্বের সময়েই তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করেছেন ওই বিধায়ক।”

  

Advertisement

এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে আনন্দবাজার অনলাইন-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেইসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের সালের ২৪ জুলাই বিধানসভার প্রথমার্ধের অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই লবিতে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। মূলত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তপন চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতায় অসদুপায়ে দুটি ফ্ল্যাট আছে, এবং তার মেয়ে তৃতীয় ডিভিশনে পাশ করে চাকরি করছে বলে অভিযোগ করেন। সেই ঘটান প্রতিবাদেই বিধানসভায়  শুভেন্দুকে দেখতেই প্রতিবাদে জানান তপন চট্টোপাধ্যায়।

এই ঘটনার পর নন্দীগ্রামের তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিধানসভার অন্দরে তাঁকে শারীরিক হেনস্থা করার চেষ্টা করেছেন তপন চট্টোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি, চিঠিতে তিনি বিধানসভার মধ্যে বিজেপি বিধায়কদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ৷ অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে খুনের হুমকি দিয়েছেন। এমনটাই অভিযোগ করে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ও।

এর থেকে প্রামাণ হয় যে, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপি বিধায়কের বিবাদ দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে পুরনো ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় এক বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটি বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকরারের সময়ের নয়। বরং সেটি ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই বিধানসভায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাকবিতণ্ডার দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement