Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: আন্টার্কটিকায় ভাঙা হিমশৈলে লক্ষাধিক পেঙ্গুইন-হাজারো পোলার বেয়ার থাকত? এই ছবিগুলি সেখানকার?

ছবি দুটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে লেখা হচ্ছে, এটি পৃথিবীর বৃহত্তম আইসবার্গ যা নাকি দু'দিন আগেই ভেসে গিয়েছে। এবং এই হিমশৈলে অজস্র পেঙ্গুইন ও পোলার বেয়ার বসবাস করত। 

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 17 Dec 2023,
  • अपडेटेड 4:27 PM IST

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এই পোস্টে কোনও হিমশৈল বা ভাঙা আইসবার্গের দুটি ছবির কোলাজ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। একটি ছবি স্যাটেলাইটের, আরেকটি ক্যামেরায় উঁচু জায়গা থেকে তোলা। 

ছবি দুটি ফেসবুকে শেয়ার করে লেখা হচ্ছে, এটি পৃথিবীর বৃহত্তম আইসবার্গ যা নাকি সম্প্রতি ভেসে গিয়েছে। এবং এই হিমশৈলে অজস্র পেঙ্গুইন ও পোলার বেয়ার বসবাস করত। 

ছবির কোলাজ-সহ ১৫ ডিসেম্বরের পোস্টে লেখা হয়েছে, "6000 বছর ধরে একজায়গাই ছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ICE BURG ,যেটি ঢাকার চেয়েও বড়। পৃথিবীর অতিরিক্ত গরমে আজকে সকালে ছুটে যায় Antarctica থেকে, এখানে প্রায় ৮ রকমের প্রাণী বসবাস করতো,ধারনা করা হচ্ছে প্রায় ১০/১৫হাজার এর চেয়েও বেশি POLAR BEAR এবং লাখ এর চেয়েও বেশি Penguin ছিলো। Source: BBC Global. Global warming is real! We'll realize soon. ঢাকার থেকেও বড়। ভেসে গেল বৃহত্তম আইসবার্গ! যার আয়তন বাংলাদেশের তিন ভাগের একভাগ।" 

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে এই ভাইরাল পোস্টটি বিভ্রান্তিকর। মূলত, তিনটি কারণে এই পোস্টটিকে বিভ্রান্তিকর বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। 

কী সেই কারণ

প্রথম কারণ, ছবিজোড়া এখনকার নয়: সবার প্রথম আমরা খুঁজে পাই যে ভাইরাল পোস্টে যে ছবিদুটি শেয়ার করা হয়েছে, সেগুলি সাম্প্রতিক কোনও ঘটনার নয়। একটি ২০২১ ও অপরটি ২০২০ সালের ভিন্ন দুই ঘটনার ছবি। 

ভাইরাল পোস্টে থাকা প্রথম, অর্থাৎ স্যাটেলাইট ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ওই একই ছবি আমরা ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে দেখতে পাই। ২০২১ সালের ২০ মে প্রকাশিত এই খবরে লেখা হয় যে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি থেকে এই ছবিটি শেয়ার করা হচ্ছে। এবং এখানে দেখা যাচ্ছে ভারতের রাজধানী দিল্লির আকৃতির একটি হিমশৈলকে আন্টার্কটিকা থেকে ভেঙে আলাদা হয়ে যেতে। 

Advertisement

কোলাজের দ্বিতীয় ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ওই একই ছবি আমরা দেখতে পাই দ্য গার্ডিয়ানের একটি খবরে যা ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশ পেয়েছিল। সেখানে লেখা হয় যে ছবিটি আন্টার্কটিকার একটি হিমশৈলের যা ভেঙে গিয়ে দু-টুকরো হওয়ার পর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। 

অর্থাৎ ছবিগুলি যে সাম্প্রতিক নয়, তা এর থেকেই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। 

আন্টার্কটিকায় সম্প্রতি কী হয়েছে, কবে হয়েছে?

যেহেতু এই পোস্টে তথ্যসূত্র হিসেবে বিবিসি-র নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই সবার প্রথম আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করি বিবিসি এই নিয়ে কী খবর করেছে। সবার প্রথম বিবিসি-র প্রকাশিত গত ২৪ নভেম্বরের একটি প্রতিবেদন আমাদের নজরে পড়ে।

সেখানে লেখা হয়, বর্তমানে এই হিমশৈলটি পৃথিবীর বৃহত্তম যার নাম A23a। ১৯৮৬ সালে আন্টার্কটিকা থেকে আলাদা হওয়ার প্রায় ৩০ বছর পর এসে সেটি বর্তমানে দূরে সরে আসতে শুরু করেছে। এখানে ওই হিমশৈলের স্যাটেলাইটে তোলা ছবি প্রকাশ করা হয়। তথ্য় অনুযায়ী, এই হিমশৈলের খণ্ডটির আয়তন প্রায় ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা গ্রেট ব্রিটেনের তুলনায় দ্বিগুণ। 

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে গত নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখ ওই হিমশৈলটির অবস্থান দেখানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে বিশালাকার খণ্ডটি আন্টার্কটিকা থেকে সরে আসতে শুরু করেছে। 

অর্থাৎ, ভাইরাল হওয়া পোস্টের দাবি অনুযায়ী যে এটি ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখের ঘটনা নয়, সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেল। 

ওই হিমশৈলে কি লক্ষাধিক পেঙ্গুইন ও হাজারো পোলার বেয়ার রয়েছে? 

পোস্টের দাবি অনুযায়ী, যদি সত্যিই ওই হিমশৈলে ১০ থেকে ১৫ হাজারের বেশি পোলার বেয়ার এবং লক্ষাধিক পেঙ্গুইন থেকে থাকত, তবে কোনও না কোনও খবরে সেই তথ্যই প্রকাশ পেত অবশ্যই। কিন্তু, আমরা এমন একটিও নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যমের খবর পাইনি যেখানে এমন দাবি করা হয়। এর থেকে দাবিটি নিয়ে সংশয় জাগে। 

এরপর আমরা কিওয়ার্ড সার্চ করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি আন্টার্কটিকার আইসবার্গগুলিতে আদৌ পোলার বেয়ার বা পেঙ্গুইনের বসবাস রয়েছে কিনা। 

তখন সবার প্রথম আমরা ফোর্বসের একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। সেখানে শিরোনামেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, আন্টার্কটিকায় পোলার বেয়ার থাকে না। বিশদ প্রতিবেদনে জানা যায়, বহু প্রচলিত মিথ্যা এবং ভ্রান্ত ধারণা হল যে আন্টার্কটিকায় পোলার বেয়ার থাকে। আন্টার্কটিয়ার পোলার বেয়ার পাওয়া যায় না, বরং এটি দেখতে পাওয়া যায় আর্টিক সার্কেলে। 

অন্যদিকে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের আরেকটি প্রতিবেদন ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পেয়েছিল, সেখানেও স্পষ্ট করে লেখা হয় যে দক্ষিণ মেরু বা আন্টর্কটিকায় পেঙ্গুইন বসবাস করে না এবং তাদের দেখাও যায় না। এটি একটি মস্ত বড় ভুল ধারণা। পক্ষান্তরে, পেঙ্গুইন আর্টিক সার্কেলের আশেপাশে উপকূল এলাকায় বেশি পাওয়া যায়। 

আন্টার্কটিকা ও আর্টিক সার্কেলের পার্থক্য কী? 

আন্টার্কটিকা হচ্ছে পৃথিবীর দক্ষিণতম মেরু, যা পুরোপুরি বরফে আবৃত। অন্যদিকে, আর্টিক সার্কেল হচ্ছে উত্তর আমেরিকা ও সাইবেরিয়ার একটি মধ্যবর্তী গ্রীনল্যান্ড ঘেঁষা জায়গা। এই দুইয়ের প্রধান ও ভৌগলিক পার্থক্য ২০১৯ সালের নাসার একটি প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি এখানে পড়া যাবে। 

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে ভাইরাল হওয়া পোস্টটি কী কী কারণে বিভ্রান্তিকর। 

 


 

Fact Check

Claim

ছবিতে পৃথিবীর বৃহত্তম আইসবার্গ দেখা যাচ্ছে যেটি ১৫ ডিসেম্বর আন্টার্কটিকা থেকে আলাদা হয়ে গেছে। এখানে লক্ষাধিক পেঙ্গুইন ও কয়েক হাজার পোলার বেয়ারের বসবাস ছিল।

Conclusion

ছবি দুটি ২০২০ ও ২০২১ সালের ভিন্ন দুটি আইসবার্গের। গত নভেম্বর মাসে আন্টার্কটিকা থেকে A23a নামের আইসবার্গটি বিচ্ছিন্ন হয়ে এগোতে শুরু করেছে। দক্ষিণ মেরু বা আন্টার্কটিকায় কোনও পেঙ্গুইন বা পোলার বেয়ার বসবাস করে না।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement