Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: তারকেশ্বরে মুরগির দেহে মরফিন ভাইরাসের হানা! গুজব ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

মরফিন ভাইরাসের হানা নিয়ে আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রটতে শুরু করেছে।

ফরফিন ভাইরাস নিয়ে আবারও গুজব ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফরফিন ভাইরাস নিয়ে আবারও গুজব ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 30 Apr 2022,
  • अपडेटेड 3:37 PM IST

সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হতে দেখা যাচ্ছে। ভাইরাল সেই পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে,হুগলীর তারকেশ্বরে নাকি মরফিন নামক একটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। সেই মরফিন ভাইরাসের প্রকোপে নাকি কিডনির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং এমনকি মানুষের মৃত্যুও ঘটছে।

ভাইরাল পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেই ছবিতে এক ব্যক্তির পিঠ দেখা যাচ্ছে এবং তাতে অসংখ্য গুটি-গুটি দাগও রয়েছে।

পোস্টে লেখা রয়েছে, "মুরগির মাংস খাওয়া যাবে না এখন। হুগলীর তারকেশ্বর এ মরফিন ভাইরাস পৌঁছে গেছে। এখন পর্যন্ত অনেক মানুষকে বর্ধমানের মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।" এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে মুরগীর মাধ্যমে এই রোগ ছড়াচ্ছে। তাই আপাতত মুরগীর মাংস খাওয়া বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছে। 

ইন্ডিয়া টুডে অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফয়া) তদন্ত করে পেয়েছে যে ভাইরাল দাবিটি বিভ্রান্তিকর। এমন কোনও ভাইরাসের হদিশ এ রাজ্যে পাওয়া যায়নি। এমন গুজব আগেও একাধিকবার ছড়িয়েছে। 

আফয়া তদন্ত

ভাইরাল পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে আমরা সবার প্রথম ভাইরাল পোস্টে থাকা ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। সার্চের দরুণ সেই একই ছবি আমরা ব্রিটেনের ওয়েবসাইট মিরর-এর একটি প্রতিবেদনে দেখতে পাই, যা ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশ করা হয়েছিল। 

ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এটি চিকেন পক্সে আক্রান্ত এক ব্যক্তির ছবি। যার দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই ছবিটির সঙ্গে তথাকথিত মরফিন ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই। 

এরপর যখন আমরা মরফিন ভাইরাস সংক্রান্ত কীওয়ার্ড সার্চ করি, তখন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদন নজরে পড়ে। 

সেই প্রতিবেদনে স্পষ্ট লেখা হয়, মরফিন ভাইরাসের ব্যাপারটি আদতে একটি গুজব মাত্র। বাস্তবে এর কোনও অস্তিত্ব নেই। সেই প্রতিবেদন অনুসারে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে এই নিয়ে গুজব ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

২০১৮ সালেও এই সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছিল। সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেই সময় মাছ খাওয়া নিয়ে আপত্তি তুলে একই মেসেজ ভাইরাল করা হয়েছিল। তবে পুরো ব্যাপারটিই ছিল ভুয়ো। 

সেই সঙ্গে আমরা সাম্প্রতিক কোনও এমন রিপোর্ট পাইনি যেখানে মরফিন ভাইরাসের কথা লেখা হয়। উল্লেখ্য, এই সংক্রান্ত গুজব ছড়ানোর জন্য ২০১৮ সালের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের সিআইডি। 

সুতরাং, ভাইরাল পোস্টটি যে নিতান্তই গুজব, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

(দিল্লি থেকে যশ মিত্তলের ইনপুট-সহ)

Fact Check

Claim

হুগলী জেলায় মরফিন ভাইরাস পোঁছে গিয়েছে। মুরগির মাংসের মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস থেকে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

Conclusion

এমন কোনও ভাইরাসের অস্তিত্ব নেই। এমন গুজব আগেও ছড়িয়েছে যার জন্য পুলিশ গ্রেফতারও করেছে।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement