Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: মণিপুরে খৃষ্টান মহিলাকে অপহরণের দাবিতে মধ্য প্রদেশের ঘটনা সাম্প্রদায়িক মোড়কে প্রচার

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মণিপুরের নয় বরং মধ্য প্রদেশের। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় কোনও সাম্প্রদায়িক যোগ নেই, যেমনটা দাবি করা হয়েছে।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 12 May 2026,
  • अपडेटेड 4:40 PM IST

জাতিগত হিংসার কারণে বিগত কয়েক বছর ধরেই উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের মণিপুর রাজ্য। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সিসিটিভি ফুটেজ পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে যে, হিন্দুত্ববাদীরা নাকি খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী এক মহিলাকে তাঁর সন্তান-সহ অপহরণ করে নিয়ে গেছে ওই মহিলার বাবা মায়ের সামনেই।

ভাইরাল হওয়া এই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, জনাকয়েক দুষ্কৃতী মুখে কাপড় বেঁধে একটি বাড়িতে ঢুকছে, এবং বলপূর্বক এক মহিলাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “ভা/র*তের মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হি'ন্দু/ত্ববা'দী জ*ঙ্গিরা এক খ্রিস্টান মা ও মেয়েকে অপহরণ করে, আর বাবা ভয়ে স্তম্ভিত হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। অসহায় বাবা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মণিপুরের নয় বরং মধ্য প্রদেশের। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় কোনও সাম্প্রদায়িক যোগ নেই, যেমনটা দাবি করা হয়েছে।

সত্য উদ্ঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে একে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ঘটনার ছবি NDTV, News18-সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে পাওয়া যায়। সেই রিপোর্টগুলি অনুযায়ী, উক্ত ঘটনাটি মধ্য প্রদেশের শিবপুরিতে ঘটেছিল।

গত ৯ মে এই রিপোর্টগুলোতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন ২২ বছরের এক তরুণী মেহক গুহারিয়া এবং তাঁর তিন মাসের শিশু কন্যা আরোহী। অভিযুক্ত পুষ্পেন্দ্র চৌহান, যিনি কারেরা এলাকার বাসিন্দা। রিপোর্ট অনুযায়ী, মেহক ও পুষ্পেন্দ্র প্রায় তিন বছর ধরে ইন্দোরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও হয়।

মেহকের মা নীলম গুহারিয়ার অভিযোগ, গত কিছু সময় ধরে পুষ্পেন্দ্র মেহকের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। সেই কারণেই মেহক নিজের শিশুকন্যাকে নিয়ে শিবপুরীতে বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর থেকেই পুষ্পেন্দ্র নিয়মিত হুমকি দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। সে কয়েকবার বাড়িতে গিয়ে মেহককে ফের সঙ্গে যেতে চাপ দেয়। মেহক রাজি না হওয়ায় অপহরণের হুমকিও দেয়।

Advertisement

এরপর আলোচ্য ঘটনাটি ঘটে ৮ মে রাত প্রায় ৮টা ৩৫ মিনিট নাগাদ। অভিযোগ, পুষ্পেন্দ্র প্রায় ৮-১০ জন সহযোগীকে নিয়ে মেহকদের বাড়িতে ঢোকে। কারও হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র, কারও হাতে হকি স্টিক, লাঠি ও অন্যান্য অস্ত্র। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং পরে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে একদল মুখ ঢাকা লোককে জোর করে বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢুকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে এবং জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করে। নীলম গুহারিয়া ও তাঁর স্বামী ত্রিপ্তেশ গুহারিয়াকে মারধর করা হয়। শিশুকন্যাটিকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এরপর মেহক ও তাঁর তিন মাসের মেয়েকে জোর করে একটি সাদা রঙের ওয়াগন-আর গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে শিবপুর কোতয়ালি থানার এসএইচও কৃপাল সিং রাঠৌরও আজতককে নিশ্চিত করেন যে কোনও ধর্মীয় কারণে এই ঘটনা ঘটনো হয়নি বরং পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত সমস্যাই এই ঘটনার সূত্রপাত।

সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে মধ্য প্রদেশের শিবপুরির একটি পারিবারিক ঘটনাকে মণিপুরের দাবি করে তাকে বিভ্রান্তিকর সাম্প্রদায়িক মোড়কে প্রচার করা হচ্ছে।

Fact Check

Claim

মণিপুরে হিন্দুত্ববাদীরা এক খ্রিস্টান মহিলা ও তাঁর সন্তানকে অপহরণ করেছে।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটি মণিপুরের নয়। এটি মধ্য প্রদেশের শিবপুরির একটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিবাদের ঘটনা, যার সঙ্গে কোনও সাম্প্রদায়িক যোগ নেই।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement