Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: ট্রাইবুনালে আবেদনকারীরা ভোট দিতে পারবেন বিধানসভায়! এমন কি বলেছে সুপ্রিম কোর্ট?

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, পোস্টে যেমন লেখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট এমন কিছুই জানায়নি। পক্ষান্তরে, ১৩ এপ্রিলের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কার্যত স্পষ্ট হয়ে দিয়েছেন যে ট্রাইবুনালে আবেদনকারীরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। 

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 14 Apr 2026,
  • अपडेटेड 5:55 PM IST

বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরগরম এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে। আর এই প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাতিল হয়ে গিয়েছে। এই ২৭ লক্ষের বেশি মানুষকে যদি পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হয়, তবে কলকাতার জোকায় আপিল ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হতে হবে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। 

এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে যে পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যারা ইতিমধ্যেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন তারা আসন্ন বিধানসভায় ভোট দিতে পারবেন। আর এটা নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই সম্ভব হচ্ছে। 

শেয়ার করা পোস্টে লেখা হয়েছে, “ট্রাইবুনালে যারা আবেদন করেছিলেন তারা আগামী বিধানসভায় ভোট দিতে পারবেন । জানালো সুপ্রিম কোর্ট। আর এটা দিদির জন্য সম্ভব হয়েছে।” 

প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর শুনানির প্রাথমিক পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে হাজির হয়ে নিজেই সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যা এক নজিরবিহীন ঘটনা। 

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, পোস্টে যেমন লেখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট এমন কিছুই জানায়নি। পক্ষান্তরে, ১৩ এপ্রিলের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কার্যত স্পষ্ট হয়ে দিয়েছেন যে ট্রাইবুনালে আবেদনকারীরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। 

সত্য উদঘাটন 

এই বিষয়ে বিশদে সার্চ করা হলে ১৩ এপ্রিল প্রকাশিত লাইভ ল-র একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং যাঁদের আবেদন এখনও আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের আসন্ন বিধানসভায় ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আদালত অনীহা প্রকাশ করেছে। তবে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে যদি কিছু আপিল মঞ্জুর হয়ে যায় তবে সেই নামগুলি নিয়ে পুর্নবিবেচনা করা যেতে পারে। 

Advertisement

১৩ এপ্রিল শুনানির সময় কী ঘটেছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পাওয়া যাবে লাইভ ল-র এই প্রতিবেদনে। সেই খবর অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চকে জানানো হয়, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ লক্ষেরও বেশি আপিল জমা পড়েছে। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মাত্র ১৯টি ট্রাইব্যুনাল এত বিপুল সংখ্যক আপিল নির্বাচনের আগে নিষ্পত্তি করতে পারবে না, তাই আবেদনকারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান যুক্তি দেন—যদি বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) চলমান থাকে, তবে পুরনো ভোটার তালিকাই ব্যবহার করা উচিত। 

এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের ভোট দিতে দেওয়ার প্রশ্ন কোথা থেকে আসছে? তা হলে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছে, তাঁদের ভোট দেওয়াও তো আটকাতে হয়।” 

এই বিষয়ে ১৩ এপ্রিল দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে সাফ লেখা হয়, ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ৩৪ লক্ষের বেশি মানুষ আসন্ন বঙ্গ বিধানসভা ভোটে ভোট দিতে পারবেন না। প্রতিবেদন অনুযায়ী কলকাতা হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, সোমবার থেকে ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করেছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এর অর্থ, ওই ২৭ লক্ষ 'বাতিল' ভোটারদের একাংশের সঙ্গে আগে বাদ পড়া ভোটাররাও ট্রাইবুনালে আবেদন করে থাকতে পারেন।

একই সঙ্গে যে সব 'বিবেচনাধীন' ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় যোগ হয়েছে, তাঁদের নামেও আপত্তি তুলে লক্ষ লক্ষ আবেদন ট্রাইবুনালে জমা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যদি ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দিতে হয়, তা হলে যে সব ভোটারের নাম তালিকায় যোগ করা নিয়ে ট্রাইবুনালে আপত্তি জানানো হয়েছে, তাঁদেরও ভোট দিতে বাধা দিতে হয়। সেটা সম্ভব নয়। 

প্রসঙ্গত, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলা দু'দফার ভোটার তালিকা আগেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। প্রথম দফার জন্য গত ৬ তারিখ ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় তালিকা ফ্রিজ হয়েছে ৯ এপ্রিল। ওই দু'দিনই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। আইন অনুসারে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন রাত ১২টা পর্যন্ত যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। সেই অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের ১৩ এপ্রিলের শুনানিতে কার্যত সাফ হয়ে যায় যে, বিচারাধীন ভোটারদের ভোট দেওয়া আশা আসন্ন নির্বাচনে নেই বললেই চলে। 

অর্থাৎ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো দাবি যে বিভ্রান্তিকর তা বুঝতে বাকি থাকে না। 

 

Fact Check

Claim

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ট্রাইবুনালে যারা আবেদন করেছেন তারা আগামী বিধানসভায় ভোট দিতে পারবেন।

Conclusion

১৩ এপ্রিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এমন কোনও নির্দেশ দেয়নি। আদালত জানিয়েছে—ট্রাইবুনালে আবেদন করলেই ভোটাধিকার দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement