
দক্ষিণী সিনেমার তারকা থালাপতি বিজয়, যিনি জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর নামেও পরিচিত, তিনি গত ২০২৪ সালে একটি রাজনৈতিক দলের সূচনা করেছিলেন। তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (TVK) নামের দলের সূত্রপাত হওয়ার সময় থেকেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একাধিকবার আক্রমণে শান দিয়েছেন বিজয়। সম্প্রতি, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে বলা হচ্ছে যে, জনতার হাতে তিনি হেনস্থা হয়েছেন।
বিজয়কে বিশাল জনতার মধ্য দিয়ে হেঁটে একটি গাড়িতে উঠতে দেখা যাচ্ছে। গাড়ির কাছে যাওয়ার সময় তাকে হোঁচট খেতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে লেখা হচ্ছে, “বিজয় থালাপতির বর্তমান অবস্থা, ভারতীয় হিন্দুদের সাথে লাগতে গিয়েছিল।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে আসল প্রেক্ষাপট ছাড়াই ভিডিওটি এমনভাবে শেয়ার করা হচ্ছে যার থেকে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এই ভিডিওটি গত ডিসেম্বর মাসের এবং চেন্নাই বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষারত ভক্তদের ভিড়ে হিমশিম খেয়ে হোঁচট লেগে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য।
সত্য উদঘাটন
ভাইরাল ভিডিওটি গভীরভাবে দেখলে বোঝা যাচ্ছে, এখানে বিজয়কে কোনও রকমের হেনস্থার দৃশ্য নেই। বরং, ভিড়ের মধ্যে দিয়ে বিজয় হেঁটে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। পুলিশ অভিনেতার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা যুবকদের পিছু হটছে। এক পর্যায়ে গাড়িতে ওঠার মুখে তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছেন, এমন দৃশ্যও রয়েছে।
এই ভিডিওটির বিষয়ে আরও তথ্য পেতে এই সম্পর্কিত কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে একাধিক রিপোর্ট পাওয়া যায়। উক্ত রিপোর্টগুলোতে বলা হয় যে, এটি অনুরাগীদের উন্মাদনার মাঝে বিজয়ের হোঁচট খাওয়ার দৃশ্য। নিউজ 9 সংবাদ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই একই ঘটনার একটি পৃথক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
এবিপি তামিলের এক খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর এই ঘটনাটি চেন্নাই বিমানবন্দরে ঘটে। বিজয়ের রাজনৈতিক দল TVK কর্মীরা এবং তাঁর অনুরাগীরা বিমানবন্দরের বাইরে অভিনেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কারণ অভিনেতা মালয়েশিয়া থেকে চেন্নাইতে ফিরেছিলেন। ঠিক সেই সময় ভিড়ের মধ্যে কোনওমতে গাড়িতে ওঠেন বিজয়। সবাই যখন বিজয়ের কাছে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি করছিল, তখন তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং পড়ে যান।
খবরে আরও বলা হয়েছে যে, বিজয়কে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ভক্ত এবং সমর্থকরা জড়ো হওয়ায় এলাকায় তীব্র যানজট ছিল। মালয়েশিয়া থেকে চেন্নাই ফিরে আসা বিজয় এখন প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত-সহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন বলে এবিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খবরের একটি অনুবাদিত নীচে দেখা যাবে ।
এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কোনও প্রতিবেদনেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে বিজয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল, বা তাঁকে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছিল। সুতরাং, পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভাইরাল ভিডিওটির ক্যাপশন বিভ্রান্তিকর ও প্রেক্ষাপট বিহীন।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে হিন্দু-বিরোধী অবস্থান নেওয়ার জন্য থালাপতি বিজয়কে কীভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।
২০২৫-এর ২৮ ডিসেম্বরের এই ভিডিওটি চেন্নাই বিমানবন্দরের এবং এর সঙ্গে থালাপতি বিজয়ের হেনস্থা হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এখানে দলীয় সমর্থক ও অনুরাগীদের পাশ কাটিয়ে গাড়িতে উঠতে গিয়ে তিনি হোঁচট খান।