Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: নামাজ আটকাতে ইমামদের জেলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ? ভুয়ো দাবিতে ছড়াচ্ছে অন্য ঘটনার ভিডিও

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি অসত্য। ভিডিওটির সঙ্গে ইমাম গ্রেফতারের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার প্রায় তিন মাস পুরনো একটি ঘটনার ভিডিও, যা বর্তমানে বিভ্রান্তিকর দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 14 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:31 PM IST

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদের তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে যাতে তাঁরা নামাজ পরিচালনা করতে না পারেন। প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কয়েকজন টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত প্রবীণ ব্যক্তিকে পুলিশের সঙ্গে যেতে দেখা যায়।

‘Mahboor Original 0.2’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি পোস্ট করে বলা হয়, ভারতে ইমামদের মসজিদ থেকে তুলে জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যাতে তাঁরা নামাজ পড়াতে না পারেন। কিন্তু তাঁরা জেলেও নামাজ পড়াবেন, আর বাইরে মানুষ নামাজ পড়বে। পোস্টটির ক্যাপশনেও লেখা হয়, ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদের জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন।

তবে আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি অসত্য। ভিডিওটির সঙ্গে ইমাম গ্রেফতারের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার প্রায় তিন মাস পুরনো একটি ঘটনার ভিডিও, যা বর্তমানে বিভ্রান্তিকর দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

সত্য উদ্ঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওর একাধিক কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘Gali News India’ নামে একটি ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একই দৃশ্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে উত্তর প্রদেশের আরও কয়েকটি ইউটিউব ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই ভিডিও ব্যবহার করা হয়। সেই পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ ছিল, এটি ১৯৯৯ সালের মুবারকপুর শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা সংক্রান্ত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার ঘটনা।


এরপর বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়। সেই অনুসন্ধানে টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ডেকান হেরাল্ড, হিন্দুস্তান টাইমস-সহ একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলি থেকে জানা যায়, ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার মুবারকপুর এলাকার।

Advertisement

আসলে কী ঘটেছিল?

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের এপ্রিল মাসে মুবারকপুর এলাকায় শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার আবহে আলি আকবর নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তাঁর পরিবার প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরে ৩০ এপ্রিল রাজা ভাট নামে একটি পুকুর থেকে তাঁর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, মহররমের শোভাযাত্রা থেকে ফেরার পথে তাঁকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়েছিল।

ঘটনার পর একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং প্রায় ২৭ বছর ধরে আদালতে শুনানি চলে। বিচার চলাকালীন অভিযুক্তদের মধ্যে চার জনের মৃত্যু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে নয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আজমগড়ের জেলা ও দায়রা আদালত মামলার ১২ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তীতে আদালত তাঁদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৬৬,৫০০ টাকা করে জরিমানা দেয়।

ভাইরাল ভিডিওটি কোথাকার?

যে ভিডিওটি বর্তমানে ইমাম গ্রেফতারের দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে, সেটি আসলে ওই ১২ দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সময় ধারণ করা ভিডিও। ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিরা কোনও মসজিদের ইমাম নন এবং তাঁদের নামাজ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং তাঁরা ১৯৯৯ সালের একটি হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি।

অর্থাৎ সবমিলিয়ে বলাই যায় যে ভাইরাল দাবিটি মিথ্যা। ভিডিওটি মসজিদ থেকে ইমামদের গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য নয়। এটি উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের মুবারকপুরে ১৯৯৯ সালের শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষ-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আদালত-সংক্রান্ত পুরনো ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভারতে মসজিদ থেকে ইমামদের তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা নামাজ পরিচালনা করতে না পারেন।

Conclusion

ভিডিওটি মসজিদ থেকে ইমামদের গ্রেফতারের নয়। এটি উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার মুবারকপুরে ১৯৯৯ সালের শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষে আলি আকবর হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ১২ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করার সময়ের ভিডিও।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement