
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘুষ নিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করেছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ একাধিক ব্যবহারকারী। সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, কোনও একটি ফাইলে সই করার বিনিময়ে ব্রাত্য বসু এই টাকা নিয়েছেন।
এই ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে বিজেপি প্রার্থী ও নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করেছেন।
অপর একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওর উপরে লেখা হয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর চাঞ্চল্যকর ভিডিও; দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে বড়সড় তথ্য ফাঁস।”
ভিডিওটি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখেছেন, “হ্যাঁ। ঠিক দেখছেন।নাট্যকার ব্রাত্য বসু টাকা নিচ্ছেন। এতকিছুর পরে কি মনে হয় , বাংলার মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবে?”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি আসল কোনও ঘটনার নয় বরং এটি এআই দিয়ে তৈরি। বাস্তবে এমন কোনও ঘটনার খবর কোথাও প্রকাশ পায়নি।
সত্য উদ্ঘাটন
ইতিপূর্বে নারদা স্টিং অপারেশনের মতো ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল একাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রীর, যা নিয়ে গোটা দেশে তোলপাড় পড়েছিল বেশ কিছু সময়ের জন্য। ফলে আবারও যদি একই ধরনের কোনও ঘটনায় তৃণমূলের কোনও প্রথম সারির নেতা বা মন্ত্রীর নাম জড়াতো, তবে সেই বিষয়ে নিঃসন্দেহে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমেও খবর প্রকাশ পেত। কিন্তু এই সংক্রান্ত কোনও খবর কোনও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি ভাইরাল ভিডিওতে একটি সংবাদ মাধ্যমের লোগো দেখা যাবে যার নাম হিন্দিতে লেখা ‘तहलका TV’ (তহলকা টিভি)। কিন্তু এই ধরনের লোগো-সহ ‘तहलका TV’ নামে কোনও সংবাদ মাধ্যমের ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল পাওয়া যায়নি।
সেই সঙ্গে চ্যানেলের লোগোটি হিন্দি হরফে হলেও তার লেখা সব লেখাগুলি ছিল বাংলায়। সাধারণত, কোনও বাংলা চ্যানেলের লোগো হিন্দি হরফে হয় না। এবং হিন্দি চ্যানেলে বাংলায় লেখা হয় না বা বাংলা ভাষায় ভয়েসওভারও দেওয়া হয়নি। এই হিন্দি চ্যানেলের লোগো থাকা ভিডিওতে এক নারীকণ্ঠর বাংলায় ভয়েসওভার শোনা যাচ্ছে।
বিষয়গুলি ইঙ্গিত করে যে ভাইরাল ভিডিওটি খুব সম্ভবত এআই দ্বারা নির্মিত হতে পারে। যে কারণে একাধিক এআই ডিটেক্টর টুলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করা হলে একে ৭২ শতাংশ এআই নির্মিত বলে জানানো হয়।
সবমিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে যে একটি এআই নির্মিত ভিডিওকে বর্তমানে আসল ঘটনা বলে শেয়ার করা হচ্ছে যা ভিত্তিহীন।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ফাইল সইয়ের বিনিময়ে ঘুষ নিতে দেখা যাচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওটি আসল নয়। এটি কৃত্রিম এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এমন কোনও ঘটনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট নেই।