Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় সেজে উঠছে রাইটার্স বিল্ডিং? না, ভাইরাল ভিডিওটি অন্য জায়গার

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি কলকাতার অপর একটি আবাসনকে সাজিয়ে তোলার দৃশ্য।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 16 May 2026,
  • अपडेटेड 4:01 PM IST

ছাব্বিশের পালাবদলের পর হাওড়ার নবান্ন ছেড়ে ফের একবার কলকাতার লালবাড়ি, অর্থাৎ রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফিরতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। ইতিমধ্য়েই একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হলেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রিসভার সকল দফতর ফিরে আসবে কলকাতার এই কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যময় লালবাড়িতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে এই বাড়ি থেকে পরিচালিত হতো রাজ্য।

এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে, যে ভিডিও-র মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় নানা শৈল্পিক আঁকিবুকিতে সেজে উঠছে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের অন্দরমহল। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি হাতে তুলি নিয়ে একটি দেওয়ালে নানা নকশার শিল্পকলা ফুটিয়ে তুলছেন।

ভিডিওটি এক্স এবং ফেসবুকের মতো নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে কেউ কেউ লিখেছেন, “দুঃস্বপ্নের কালরাত্রি হ'ল অবসান। সেজে উঠছে রাইটার্স বিল্ডিং নতুনের আহবানে, অতি পুরাতন পরিচিত ছন্দে।”

আর প্লাসের মতো সংবাদ মাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়া পেজেও এই ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়ছে, “নতুন সাজে রাইটার্স বিল্ডিং।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি কলকাতার অপর একটি আবাসনকে সাজিয়ে তোলার দৃশ্য।

সত্য উদ্ঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে তা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ভিডিও শালুক ফুল নামের একটি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। গত ৮ মে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল।

ভিডিওতে থাকা ক্যাপশনে লেখা হয়, “ছন্দে ছন্দে আঁকি আনন্দে...অভিদীপ্তা ১  || মুকুন্দপুর”। পরিষ্কারভাবে এখানে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কোনও উল্লেখ করা হয়নি। আলোচ্য ফেসবুক পেজে থাকা নানা ছবি ও ভিডিও দেখলে সহজেই বোধগম্য হয় যে এই পেজ এক শিল্পীর, যিনি নানা দেওয়াল, বাড়ি, বা ক্যাফের মতো জায়গায় রং-তুলির সাহায্যে নিজের শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলেন।

Advertisement

ভাইরাল ভিডিওতে শিল্পীকে যে দেওয়ালে আঁকতে দেখা যাচ্ছে, তার কয়েকটি ছবিও তিনি ৮ মে পোস্ট করেন। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখেন, “গতকাল সৌরভ কে নিয়ে গিয়েছিলাম অভিদীপ্তায় টুকুস করে একটা দেয়াল আঁকতে...।”

পেজে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে শিল্পী বিপ্লব ধর আমাদের জানান যে রাইটার্স বিল্ডিং দাবি করে যে ভিডিওটি ভাইরাল হচ্ছে তা আসলে ইএম বাইপাস সংলগ্ন মুকুন্দপুরের বহুতল আবাসন অভিদীপ্তা ১-এর। গত ৭ মে তিনি ওই আবাসনের অন্দরে থাকা একটি দেওয়ালে নিজের শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলেছিলেন। সরকারের তরফে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বা একই ধরনের কোনও কাজের প্রস্তাব এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন যে না, এই ধরনের কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

শালুক ফুল নামক পেজ থেকে শিল্পী বিপ্লব ধরও একটি ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে তিনি স্পষ্ট জানান যে ওই ভিডিওটি ভুয়ো দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দৃশ্য দাবি করে। আসল ভিডিওটি মুকুন্দপুরের অভিদীপ্তা ১-এর।

যেহেতু বর্তমানে রাইটার্স ভবন সংস্কারের দায়িত্ব পূর্ত দপ্তরের কাছে রয়েছে, তাই এর বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে একাধিক পূর্ত ভবনের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ত দপ্তরের এক কর্তা আমাদের জানান যে সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে। তবে দেওয়াল সাজানোর জন্য এই ধরনের শিল্পকলার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সচিবালয় স্থানান্তরিত করার অবস্থায় আসতে আরও বছরখানেক সমস লাগতে পারে।

ফলে সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে একটি অসম্পর্কিত ভিডিওকে কী ভাবে রাইটার্স বিল্ডিং সেজে ওঠার দৃশ্য বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কী ভাবে শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ের অন্দরমহল নতুন সাজে সেজে উঠছে।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি কলকাতার মুকুন্দপুরের ‘অভিদীপ্তা ১’ আবাসনের একটি দেওয়ালে শিল্পী বিপ্লব ধরের আঁকা শিল্পকর্মের ভিডিও।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement