
পুজোর আনন্দ নিমেষে ফিকে হয়ে গেল শনিবার সন্ধেতে। সপ্তমীতেই বিষাদের সুর বাজল কলকাতা শহরে। শনিবার সন্ধেতে চোরবাগান সর্বজনীনে আচমকাই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। নিহতদের তালিকায় রয়েছে ৭ বছরের এক শিশুও। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের বয়স ১৮ বছরের কম। সেই পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১৭ বছরের আকৃতি কুমারী। পুজোর আবহে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুজো দেখতে গিয়ে যে এরকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাবে তা কেউই ভাবতে পারেননি।
চোরবাগান সর্বজনীন পুজোয় পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয় হাওড়ার আনন্দনগরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আকৃতি কুমারীর (১৭)। আকৃতি এদিন তাঁর মামা-মামী, বড় বোন ও অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে পুজো দেখতে এই চোরবাগানে এসেছিলেন। বিহারের গয়া থেকে প্রথমবার কলকাতায় ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন আকৃতির পরিবার। আকৃতি ও তাঁর পরিবারের কাছে ভিআইপি পাসও ছিল। জানা গিয়েছে, বিকেল পাঁচটা নাগাদ আকৃতিরা পুজো দেখতে বেরিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই পরিবারের কাছে খবর আসে যে আকৃতি আর নেই। চোরবাগানের হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনায় আকৃতিরও মৃত্যু হয়।
আকৃতির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া। পরিবারের এক সদস্য কান্নাভেজা চোখে বলেন, আমার কোনও বোন নেই। আকৃতি প্রতি বছর আমায় রাখি বাঁধত। এখন আর কেউ থাকল না। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের মেয়ে হারানোর জন্য পুজো কমিটিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। পুজো উদ্যোক্তাদের গাফিলতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আকৃতির পরিবর। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে পরিবার। দোষীদের যেন কঠোর শাস্তি হয়, জানায় আকৃতির পরিবার।
মহাসপ্তমী শনিবারের সন্ধ্যায় ভিড়ের চাপে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হন ২৪ জন। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ-সহ শহরের একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতভর চিকিৎসার পরে ১১ জনকে রবিবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৪ জনকে ভোরের দিকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের ময়নাতদন্ত করার পরই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে মৃত ১৯ জনের নাম ও পরিচয়
১. শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬)
২. মিঠু মণ্ডল (৪৫)
৩. আকৃতি কুমারী (১৭)
৪. বর্ণালী হালদার (১৭)
৫. শুভম শঙ্কর (৩৩)
৬. আরতি সরকার বিশ্বাস (৪৫)
৭. টগর বেজ (৩৭)
৮. সন্দীপ বেজ (১৪)
৯. তানিয়া বিশ্বাস (১৮)
১০. কল্পনা জানা (৪৬)
১১. বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬)
১২. স্নেহা ভাণ্ডারী (২০)
১৩. পিয়ালি প্রামাণিক (২৫)
১৪. প্রিয়া সমাদ্দার (১৮)
১৫. প্রাঞ্জল সরকার (১৩)
১৬. দিলীপ ঘোষ (৫৯)
১৭. দীপালি ঘোষ (৫৪)
১৮. অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮)
১৯. আয়ংশ কুমার শ্রীবাস্তব (৭)
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ও দিকে ঠাকুর দেখা হয়ে যাওয়ার পরেও অনেকেই বৃষ্টির জন্য বের হতে না পেরে মণ্ডপের বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। ফলে এর জেরে একসঙ্গে প্রচুর মানুষ মণ্ডপের মধ্যে ঢুকে ছিলেন। সেই সময়েই পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।