Advertisement

21 July Shahid Diwas: মমতা নাকি ঋতব্রত? 'টুকরে টুকরে' TMC-র কোন শিবিরে কত ভিড়? শহিদ 'রাজনীতি'র যা নির্যাস

১৫ বছরের সেই সুবিশাল জনসমাগম, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ত্রিস্তরীয় মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ কিংবা মঞ্চ জুড়ে তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি এখন অতীত। তৃণমূল এখন 'টুকরে টুকরে'। ভাগের তৃণমূলে কোন পক্ষ কত লোক টানল? কার মঞ্চে কে কে রইলেন?

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়,  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 21 Jul 2026,
  • अपडेटेड 5:11 PM IST
  • তৃণমূল এখন 'টুকরে টুকরে'
  • ভাগের তৃণমূলে কোন পক্ষ কত লোক টানল?
  • কার মঞ্চে কে কে রইলেন?

একুশে জুলাই মানেই ছিল তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। গত ১৫ বছরের সেই সুবিশাল জনসমাগম, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ত্রিস্তরীয় মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ কিংবা মঞ্চ জুড়ে তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতির কোনও কিছুই এবার দেখা গেল না। এবারের একুশে জুলাই ছিল নজিরবিহীন। ভেঙে টুকরো হওয়া তৃণমূলের ২টি আলাদা শহিদ সমাবেশ হল আলাদা দুই স্থানে। ঢিল ছোড়া দূরত্বের দুই মঞ্চে রইলেন দু'দিকে ভাগ হয়ে যাওয়া নেতা-নেত্রীরা। তবে ভিড়ের নিরিখে কে কাকে টেক্কা দিল? কাদের দেখা গেল মমতা ও ঋতব্রতর মঞ্চে? রইল দুই একুশে সমাবেশের বর্ণনা...

কোন তৃণমূলের শহিদ দিবস কেমন হল? 
বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের রাস্তায় শহিদ দিবস পালন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে,  বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শহিদ দিবস পালন করেছেন ধর্মতলার মেয়ো রোডে। প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের আগের দিন থেকে হাজার হাজার তৃণমূলকর্মী উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় আসা শুরু করতেন। তাঁদের বিভিন্ন ক্যাম্পে রাতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। এবারেও এলেন বহু সংখ্যক তৃণমূল কর্মীই। কিন্তু তাঁরা ভাগ হয়ে গেলে মেয়ো রোড ও তারামণ্ডলের সামনের রাস্তায়। কেউ কেউ আবার বিভ্রান্ত হয়ে পথ ভুললেন। 

প্রতি বছর গোটা শহর মুড়ে ফেলা হতো শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টারে। এবার প্রথম থেকেই সে চিত্র ম্যাড়ম্যাড়ে।  খাঁ-খাঁ করছিল শিয়ালদা, হাওড়া স্টেশন এবং ফেরিঘাট চত্বর। অন্য পাঁচটা দিনের সঙ্গে ২১ জুলাইয়ের কোনও ফারাক চোখে পড়েনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে। নেই তৃণমূলের কোনও দলীয় গেট, ফেস্টুন অথবা পতাকা। বাজছে না লাউডস্পিকার। নেই কোনও অভ্যর্থনামঞ্চও। রাস্তায় রাস্তায় ত্রিপল টাঙিয়ে ডিম ভাত রান্নার চিত্রও প্রায় নেই বললেই চলে। 

ভিড়ে কে কাকে টেক্কা দিল? 
মাত্র আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে মমতা ও ঋতব্রতদের একুশের দুই মঞ্চে লোক টানার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল মমতাপন্থীরা। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে তারা মঞ্চ বেঁধেছিল বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। সামনে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন পুরো ভরে যায় কালো মাথায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে জোরাল স্লোগান দিতে শোনা যায় তাদের, ঠিক আগের ১৫ বছরের মতোই। মেয়ো রোডে সকালের দিকে ঋতব্রত তৃণমূলের সভায় খুব বেশি কর্মী-সমর্থকের দেখা মেলেনি। প্রায় ফাঁকা ছিল বললেই চলে। অধিকাংশ চেয়ারই ভর্তি হয়নি। তবে বেলা বাড়তে ফাঁকা চেয়ারগুলি ধীরে ধীরে ভর্তি হতে শুরু করে।

Advertisement

দুই তৃণমূল ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ করার কারণে দূরদূরান্তের জেলা থেকে কলকাতায় আসা দলের কর্মী সমর্থকেরাও খানিক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে মেয়ো রোডে ঋতব্রত শিবিরের সভায় দেখা গিয়েছে তৃণমূলের বেশ কয়েক জন কর্মী-সমর্থককে। তাঁদের বক্তব্য, যাওয়ার পথে তাঁরা ‘এমনি’ সভাস্থল ঘুরে গেলেন। তাঁদের গন্তব্য বিড়লা তারামণ্ডল। এক কর্মী জানান, যেহেতু প্রতীক একটাই, তাই দুই সভাতেই যোগ দেওয়ার জন্য কলকাতায় এসেছেন।

মমতা শিবিরের দাবি, সভা বানচাল করার চেষ্টা করে আদতে আদালতের অবমাননা করছে পুলিশ-প্রশাসন। ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে দেওয়ার পাশাপাশি মাইকের তার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। রাতভর মঞ্চ পাহারা দেন মমতা-অভিষেকরা। 

কোন শিবিরে কারা উপস্থিত ছিলেন? 
মমতাপন্থী তৃণমূলের মঞ্চে ছিলেন কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাজীব কুমার, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, অশোক দেব, গৌতম দেব। এছাড়াও ছিলেন উপাসনা সহ ছাত্রযুবরা। 

মেয়ো রোডে ঋতব্রত তৃণমূলের সভামঞ্চে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহা, অরূপ চক্রবর্তী, অনুব্রত মণ্ডল, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, দেবাশিস কুমার, মদন মিত্র, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। শহিদ পরিবারগুলির মধ্যে রঞ্জিত দাস, মহম্মদ খালেদ, দিলীপ দাস, রতন মণ্ডলের পরিবার ঋতব্রতদের সভায় গিয়েছে।

কোন শিবিরে কী বার্তা?
> মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাস সময় দিলেন ঋতপন্থী মদন। অভিষেককে ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান। পাশাপাশি অভিষেককে ২ ঘণ্টা সময় দিলেন ক্ষমা চাওয়ার জন্য। 

> নির্বাচন কমিশন তাঁদের আসল তৃণমূল হিসেবে মান্যতা দিলে এবং ব্যাঙ্কের টাকা ব্যবহার করাল অনুমতি দিলে তাঁরা শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেবেন, এদিন ঘোষণা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

> ঋতব্রত শিবিরের কাউকেই আর দলে ফেরত নেওয়া হবে না বলে জানালেন মমত বন্দ্যোপাধ্যায়। 
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement