
মূলত কাগজে শব্দ ফুটিয়ে তোলার কাজে ব্যবহৃত হয় পেন। তবে এবারের দুর্গাপুজোয় সেই পেন দিয়েই তৈরি হয়েছে গোটা প্রতিমা। এমনটা করা হয়েছে কলকাতার ত্রিধারা সম্মিলনীতে। লিঙ্ক লিমিটেডের ব্র্যান্ড পেন্টোনিক দিয়ে মা দুর্গা তৈরি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১৩,০০০ পেন্টোনিক পেন এবং ১৩,০০০ রিফিল ব্যবহার করে একটি দুর্গা প্রতিমা গড়ে তোলা হয়েছে। এটির উচ্চতা প্রায় ৫.৫ ফুট। প্রস্থে ৪.৫ ফুট। এই প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী চন্দ্রনাথ সাহা (তিলক)।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, হাজার হাজার রিসাইকেল পেন একত্রিত হয়ে মা দুর্গার একটি একক ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে। এই মূর্তিটি ত্রিধারা সম্মিলনীর মূল দুর্গাপুজা প্রতিমার পাশে রাখা হবে। এটি প্রচলিত দুর্গা প্রতিমার বিকল্প নয়। মূল প্রতিমাটি প্রথাগত নিয়ম মেনেই বিসর্জন দেওয়া হবে। কিন্তু পেন্টোনিক শিল্পকর্মটি বিসর্জন দেওয়া হবে না। পুজা শেষে পেন এবং রিফিলগুলি খুলে ফেলা হবে। এগুলি দিয়ে পেন তৈরি করা হবে।
শিল্পী চন্দ্রনাথ সাহা (তিলক) বলেছেন, 'এই শিল্পকর্মটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল পেনের মতো একটি পরিচিত ও কার্যকরী জিনিসকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা। এটা থেকে আর কী হতে পারে, সেটাই ভেবেছি। যখন হাজার হাজার পেনকে একসঙ্গে জড়ো করা হয়, তখন তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় বদলে যায় এবং একটি বৃহত্তর চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করে। আমি চেয়েছিলাম, এটি শিল্পকর্ম হিসেবে মনোযোগ আকর্ষণ করুক। এটি আসলে কী দিয়ে তৈরি, তা নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহল তৈরি হোক।'
লিঙ্ক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপক জালান বলেন, 'আমরা মানুষকে দেখাতে চেয়েছি পেনের মতো একটি পরিচিত সাধারণ জিনিসকে নতুন করে দেখা সম্ভব। পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ১৩,০০০ পেন্টোনিক পেনকে একত্রিত করে দুর্গা সৃষ্টি করাটা ডিজাইনের শক্তিশালী প্রকাশ।'
মাথায় রাখতে হবে, কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো ত্রিধারা সম্মিলনী। আর এখানেই পেনের মাধ্যমে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে অসংখ্য দর্শনার্থীর ঐতিহ্যবাহী পুজোর পরিবেশের পাশাপাশি শিল্পকর্মটির মুখোমুখি হবেন।
সহজভাবে বলতে গেলে, এই ইনস্টলেশনটি দর্শকদের তাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত জিনিসগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে একটি পেন ছোট এবং সাধারণ হতে পারে। কিন্তু হাজার হাজার পেন মিলে এক বিশাল রূপ ধারণ করতে পারে। আর যখন এই শিল্পকর্মটির প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সফল হবে, তখন এর মূল উপাদানগুলোকে কেবল বর্জ্য বা আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হবে না। বরং একটি নতুন পণ্য হিসেবে এগুলো আবার এক নতুন যাত্রা শুরু করতে পারবে।