
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের অভ্যন্তরে মহাসঙ্কট। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কদেক সই করা একটি চিঠি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমাও করেছেন তিনি।
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যে বিধানসভার সংখ্যার খেলা হঠাৎই পাল্টে গিয়েছে।
মমতার কাছে মাত্র ২০ বিধায়ক?
সূত্র মতে, ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সই করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের এখন আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০ জন বিধায়ক অবশিষ্ট রয়েছেন। বিধায়ক সংখ্যাক এই খেলাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তৃণমূল বর্তমানে চরম সঙ্কটের মুখোমুখি।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী বিধায়করা বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন বুধবার। যেখানে তাঁরা স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে দেখা করেছেন। শোনা যাচ্ছে, স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবও করা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের দাবি কী কী?
এই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তনে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়ার দাবি রেখেছেন।
এদিকে, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একজন মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, যে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক স্বাক্ষর করেছেন। আরও ২ জন করবেন। তিনি বলেন, 'আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমরা চাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগ করা হোক।'
বিধানসভার বর্তমান সমীকরণের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই নজিরবিহীন বিক্ষোভে পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের হাতে আর মাত্র ২০ জন অনুগত বিধায়ক রয়েছেন। অর্থাৎ দলটি পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।