
বয়স ৮১। হাঁটতে গেলে লাঠির প্রয়োজন পড়ে। ভেঙেছে শরীর। জয় কামদার আর সোনা পাপ্পুদের হাতে প্রতারিত হয়ে খুইয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাই। এমনকী, বন্দুক দেখিয়ে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আর তাই নালিশ জানাতে ভবানীপুরের বাসিন্দা ড. প্রবীর মুখোপাধ্যায় সোমবার পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর 'জনতার দরবার'-এ।
শেষ জীবনে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়াবাড়িতে উঠতে হয়েছে অশীতিপর ড. প্রবীর মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং সোনা পাপ্পু তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাঁদের বিশ্বাস করে ভবানীপুরে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দিয়েছিলেন প্রোমোটিংয়ের জন্য। কিন্তু সেই জমিতে প্রোমোটিং হলেও পাওনা ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি তাঁকে। গ্রেফতার হওয়ার আগে জয় কামদার তাঁর থেকে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন বলেও জানাচ্ছেন প্রবীর।
অশক্ত শরীরে ভবানীপুর থেকে সল্টলেকে BJP পার্টি অফিসে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'পৈতৃক ভিটে নতুন করে ডেভেলপ করে নতুন ফ্ল্যাট দেবে বলেছিল। সেই প্রোমোটার যে একজন শয়তান তা বুঝতে পারিনি। জয় কামদার, শান্তু সিনহা বিশ্বাস, সোনা পাপ্পুরা সুন্দর ব্যবহার করে বুঝিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল। বিল্ডিং তৈরি হওয়ার পর আমাদের ফ্ল্যাট দেয়নি। উল্টে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করছিল। বহুবার তাঁদের কাছে গিয়েছি কিন্তু অপমানিত হয়েছি। ভয় দেখানো হয়েছে, এমনকী রিভলভার বের করে দেখিয়েছে।' তাঁর সংযোজন, 'আজকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছি সবটা জানাতে। আমার ৮১ বছর বয়স, আর ক'দিনই বা বাঁচব। শেষ জীবনে যেন আমার মাথার ছাদটা ফিরে পাই। ভাড়া বাড়িতে থাকছি, মেয়েরা সাহায্য করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম, উনি বলুক, কী করব আমি। নতুন করে লড়াই করার মতো ক্ষমতা আর আমার নেই।'
'জনতার দরবার'-এ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রবীর বলেন, 'আশ্বস্ত হলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সমস্যার সমাধান করবেন।'
উল্লেখ্য, জয় কামদার, সোনা পাপ্পু এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, ৩ জনই বর্তমানে গ্রেফতার। আদালতে ED-র তরফে দাবি করা হয়, ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি, সম্পত্তি হস্তগত করার কাজে জড়িত ছিলেন তাঁরা।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন 'জনতার দরবার'-এ সাক্ষাৎ করেন চাকরিপ্রার্থীদের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধিদের সঙ্গে। প্রত্যেকের বক্তব্য শুনে যথাযথ পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন শুভেন্দু। দুপুর ১২টা নাগাদ সল্টলেকের দলীয় দফতর থেকে বেরিয়ে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘জনতার দরবার’ শুরু করেছেন শুভেন্দু। প্রতি সোমবার সকালে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে এই দরবার বসবে।