
সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিতে চোখের চিকিত্সা করাতে আমেরিকা গিয়েছিলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৬ তারিখেই ইনস্টাগ্রামে চোখের ছবি পোস্ট করেছিলেন। আজ অর্থাত্ ২৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ফিরলেন অভিষেক। ফিরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন। একই সঙ্গে টার্গেট করলেন তাঁদেরও, যাঁরা দাবি করছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে পালিয়েছেন, আর ফিরবেন না।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে একটি রিপোর্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা চলছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সন্ধু এবং বিবেক জোশীকে অন্ধকারে রেখেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সন্ধু এবং বিবেক জোশী। কমিশনের একটি সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশিকা নিয়ে এক দিনেই চার বার আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কোনও বারেই তাঁদের আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
আপত্তি ছিল দুই নির্বাচন কমিশনারের?
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬ পরিবর্তন নিয়ে প্রথম বড় আপত্তি ওঠে। চলতি বছরের জুলাই মাসে ফর্মে এমন একটি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়, যেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হয়, তিনি অথবা তাঁর বাবা, মা কিংবা দাদু, ঠাকুমা আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় ছিলেন কি না। এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে আবেদন জমা দেওয়া যাচ্ছিল না। মে মাসেই এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিধি সংশোধন না করে এভাবে ফর্ম ৬ পরিবর্তন করা যায় না। সুখবীর সিং সন্ধুও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ফর্মে পরিবর্তন আনা হয়।
'আমি ফিরে এসেছি,' বললেন অভিষেক
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফিরে বললেন, ' সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যে আর্টিকল বেরিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৩০ লাখ লোককে বাদ দেওয়া হয়েছে, ভোট দিতে দেওয়া হয়নি একটা দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে। যে প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে নির্বাচন কমিশনারের পদে বসবে, সে তো প্রধানমন্ত্রীর হয়েই কাজ করবে। বিজেপি নেতাদের হয়েই কাজ করবে।' এরপরেই তিনি নিন্দুকদের কটাক্ষ করে বলেন, 'অনেকের চিন্তা ছিল, আমি বাইরে গেছি, ফিরবো কিনা। আমি ফিরে এসেছি। কলকাতায়। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার যাতে না পালাতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা উচিত। অ্যারেস্ট করা উচিত। আজ ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ল। বাংলার অভিশাপ লেগে গেছে। গায়ের জোরে বাংলা দখল করতে এসেছিল।'
গত ৪ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় পৌঁছন অভিষেক। জন্স হপকিন্স হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এর আগে ওই হাসপাতালেই তাঁর চোখের অপারেশন হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘এই দাগ বলে দিচ্ছে আমি কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’ তার পরেই তৃণমূল সাংসদ লেখেন, ‘এই চোখ বলে দিচ্ছে, আমি এখনও শেষ হয়ে যাইনি।’