
১১ ঘণ্টা পর সিজিও কমপ্লেক্সের ED-র দফতর থেকে বেরোলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সকাল ১১ টার সময় তাঁকে ডাকা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। বেরোলেন রাত ১০ টা নাগাদ।
এদিন ED-র দফতর থেকে বেরিয়ে অভিষেক দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। যাঁরাই বিজেপির বিরোধিতা করছেন তাঁদের সবার সঙ্গেই এমনটা হচ্ছে। তবে তিনি সামর্থ্য অনুযায়ী তদন্তে সাহায্য করছেন। প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাইরে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, 'প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ ED আমাকে ডেকেছিল। গতকালও প্রায় সাড়ে আট থেকে ন'ঘণ্টা CID-র কাছে ছিলাম। আজ ১১ ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ঘটনায় আমাকে শেষ ২০২৩ সালে ডাকা হয়েছিল। দিল্লিতে দুবার ডাকা হয়েছিল। আমি গিয়েছি। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছি। আমার সামর্থ্য মতো উত্তর দিয়েছি।'
এরপরই সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, 'রাজনৈতিক চাপের কথা বলব না। বিজেপিকে নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভালো। একদিকে ওরা দল ভাঙছে অন্যদিকে বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধী শূন্য করার চেষ্টা হচ্ছে। জেলে ভরার চেষ্টা হচ্ছে। প্রথম দিকে SIR-এর নাম করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তারপর ভোট লুট করা হয়েছ। শেষে ভোট পরবর্তী হিংসার নামে তাণ্ডব চলেছে। বিরোধীরা যাতে স্বীকৃতি না পায় সেজন্য চক্রান্ত হচ্ছে। এভাবে সাংসদ, বিধায়কদের ভাঙিয়ে লাভ নেই। তবে আমরা আত্মসমর্পণ করব না।'
ভিত্তিহীনভাবে তাঁকে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, যাঁদের এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁরা কেউ কারাবাস করছেন না। সব্বাই জামিনে মুক্ত। কোনও সুরাহা হয়নি। যাঁদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা পাননি। বলেন, 'আমরা চেয়েছিলাম, যাঁরা যোগ্য তাঁরা চাকরি পান। তবে এই সরকার তা করেনি। আমাকে ডাকলে আগামিদিনেও সাহায্য করব।'
প্রসঙ্গত, রবিবার সই জালিয়াতিকাণ্ডে CID-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। সোমবার প্রাথমিক দুর্নীতিতে ED-র মুখোমুখি হন। মঙ্গলবার উস্কানি-মামলায় ফের তাঁকে তলব করেছে CID।