
তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়ক দলে আগেই ভাঙন ধরেছে। এবার কাউন্সিলরদের নিয়ে শহরের পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ বৈঠকে বসল টিম ঋতব্রত। কলকাতা পুরসভার ৭০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলে জানা যাচ্ছে। বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সহযোগী ফিরহাদ হাকিমও এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। নিউ টাউনের অভিজাত হোটেলে এই বৈঠক হচ্ছে।
এদিন বিধানসভায় বাজেট পেশের পরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের নেতারা বিশেষ বৈঠকে বসেন। তাতে উপস্থিত, কলকাতা পুরসভার একগুচ্ছ প্রাক্তন কাউন্সিলররাও। রয়েছেন অন্যান্য জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও, যাঁরা গত কয়েকদিনে ধীরে ধীরে টিম ঋতব্রততে যুক্ত হয়েছেন। ওই বৈঠকের নাম দেওয়া হয়েছে, 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস স্পেশাল সেশন'।
তৃণমূলের বিদায়ী বোর্ডের বহু কাউন্সিলর হাজির হন এদিনের গোপন বৈঠকে। বাস থেকে একে একে নামতে দেখা যায় জুঁই বিশ্বাস, তারক সিং, অসীম বসু, কাকলি সেনদের। নিউটাউনের নোভোটেলে এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিধায়ক জাভেদ খানও।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করেছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। ঘোষণা হয়েছে নতুন কমিটিও। সূত্রের খবর, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে ‘আসল’ তৃণমূলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। ৩০ জনকে নিয়ে নবগঠিত কমিটি সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন।
কার্যত তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এ বার তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সরিয়ে দিল। নতুন চেয়ারম্যান করা হল হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে। বিদ্রোহী বৈঠকে তৃণমূলের ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই ধারা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু ২০২২ সালের পর আর তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়নি। সেই কারণে প্রস্তাব এনে ভেঙে দেওয়া হল আগে জাতীয় কর্মসমিতি। নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করল ঋতব্রতদের ‘তৃণমূল’। সেই কর্মসমিতির চেয়ারম্যান হলেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক।