Advertisement

কলকাতার জল নামার আগেই ফের ঝড়-বৃষ্টি, রাত বাড়লেই কোন কোন জেলায় বেশি সতর্কতা?

সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে একাধিক হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সবচেয়ে আগে সতর্কতা জারি করা হয় কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলাকে ঘিরে।

রাত বাড়লেই দুর্যোগের পূর্বাভাস রাত বাড়লেই দুর্যোগের পূর্বাভাস
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 03 Aug 2026,
  • अपडेटेड 9:01 PM IST
  • আবহাওয়াবিরা জানিয়েছেন,বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা বিকানের, দিল্লি, লখনউ, পাটনা হয়ে মণিপুরের দিকে বিস্তৃত রয়েছে
  • পাশাপাশি উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি ঊর্ধ্ববায়ু ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে

সোমবার বিকেলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে কলকাতার একাধিক এলাকায় জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছিল। অফিস ছুটির সময় রাস্তায় জল জমে থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই রাতের জন্য ফের সতর্কবার্তা জারি করল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে জল জমার সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ধাপে ধাপে একাধিক হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। প্রতিটি সতর্কবার্তাই আগামী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য কার্যকর বলে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সতর্কতা জারি করা হয় কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলাকে ঘিরে। আবহাওয়া দফতর জানায়, এই জেলাগুলির এক বা একাধিক অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তারপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জন্য আলাদা করে সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানে রাতের মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং খোলা মাঠ, বড় গাছ কিংবা জলাশয়ের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একাধিক অংশেও একই ধরনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

রাত ৮টার পর জারি হওয়া সর্বশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহার জেলারও কিছু অংশে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেরও একটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।

Advertisement

আবহাওয়াবিরা জানিয়েছেন,বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা বিকানের, দিল্লি, লখনউ, পাটনা হয়ে মণিপুরের দিকে বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপর একটি ঊর্ধ্ববায়ু ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢোকার ফলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ৩ থেকে ৫ অগাস্ট উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। কিছু জায়গায় ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। ৩ ও ৪ অগাস্ট সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৫ অগাস্ট বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ৬ অগাস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭ অগাস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর সতর্ক করে জানিয়েছে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, বড় গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধস, নিচু এলাকায় জল জমা, কাঁচা বাড়ির ক্ষতি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রপাতের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের নিচু এলাকায় অস্থায়ী জল জমার সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কলকাতায় বিকেলের বৃষ্টিতে যে জলজট তৈরি হয়েছে, রাতের নতুন দফার বৃষ্টি সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

Read more!
Advertisement
Advertisement