
বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হল ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল। একইসঙ্গে পুরনো সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও পেশ হয় বিধানসভায়। কেন এই ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস দরকার, কেন ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো দরকার তা নিয়ে বলতে গিয়ে বিধানসভায় গত সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
এদিন হাওড়ার একাধিক সমস্যা নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন রাজ্যের মন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিরোধী বিধায়কেরা ওয়ার্ড ভাঙা নিয়ে প্রশ্নটা কীভাবে করছে? হাওড়ার প্রধান সমস্যা জলজমা। এটা কলকাতার মতোই অবস্থা। গত সরকারের কাছে কিন্তু হাওড়ায় উন্নতির অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তা করেনি কেন?" অগ্নিমিত্রা বলেন, "ড্রেন পরিষ্কার করতে গেলে দেখা যাচ্ছে ড্রেনের ভিতর থেকে রাশি রাশি প্লাস্টিক বার করা হচ্ছে। যার জেরে জল বার হতে পারছে না। আমাদের সরকার ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্লাস্টিক ব্যান করছে। গত সরকার এই বিষয়ে আমল দেয়নি কেন?"
হাওড়ার ভ্যাট-জঞ্জালের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, "নিয়ম মোতাবেক ভ্যাট থাকার কথা নয়। কিন্তু হাওড়া, কলকাতায় জায়গায় জায়গায় ভ্যাট রয়েছে। ময়লা, আবর্জনাতে ভর্তি। ভ্যাটের এমনই রঙ, দেখলেই বোঝা যায় কোনও দিন সেই ভ্য়াট পরিস্কার হয়নি। উপচে পড়ছে ময়লা। মাছি ঘিন ঘিন করছে। আর এগুলো নিয়ে মানুষ অভিযোগ করছে। 'মুখোমুখি' অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ফোন আসছে। গত সরকারের আমলেও অভিযোগ জানানো হত, আপনারা সমস্য়ার সমাধান করেননি কেন?"
ওয়ার্ড বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, "আগে যেখানে একটা ছোট বাড়িতে ৪ জন লোক থাকত, এখন সেখানে পরিবারে সদস্য বেড়ে গিয়েছে কিন্তু জলের লাইন একই রয়ে গিয়েছে। সেই জল থেকে ১৫ জন লোক নিচ্ছে। এগুলি কেন ঠিক করা হয়নি?" আজ আমরা বড় ওয়ার্ডগুলিকে ছোট করে পরিষেবা দিতে চাইছি। জনসংখ্যা বাড়লে ওয়ার্ড বাড়বে না? নইলে পরিষেবা দেওয়া যাবে কী করে?"
তিনি বলেন, "১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণেই ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হলে নাগরিকরা সঠিকভাবে পরিষেবা পাবেন।" অগ্নিমিত্রার বক্তব্যের পরেই বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায় হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত বিল।