
রবীন্দ্র সরোবর ফের ছটপুজোর জন্য ব্যবহারের ভাবনা ছিল সকালে। বিকেল হতে না হতেই সুর বদল করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রথমে জানিয়েছিলেন, রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি নিয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কিন্তু পরিবেশবিদরা রে রে করে উঠতেই তিনি বললেন, 'নেহাতই যদি অনুমতি না মেলে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেব।'
প্রথমে কী ভাবনা ছিল অগ্নিমিত্রার?
রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজো-নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বুধবার সকালে মন্ত্রী বলেন, 'ছটপুজো করতে দেওয়া হত না। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা ভাবছি, এ বার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেব। কেন দেব না? ওখানকার মানুষগুলো কোথায় ছটপুজো করবেন! ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে আমরা কথা বলব। আমি নিশ্চিত, কোনও না কোনও পথ বেরিয়ে আসবে। আমরা ওখানে ময়লা করব না, করতেও দেব না।'
পরিবেশবিদদের আপত্তি
মন্ত্রীর ‘ভাবনা’ প্রকাশ্যে আসতেই এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পরিবেশকর্মী তথা সবুজ মঞ্চের সম্পাদক নব দত্ত। তিনি বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তো। তার পরে আবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কীসের! এ রকম আবার হয় নাকি!’ পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘এই মামলা তো বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেখানে মন্ত্রী ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে কী কথা বলবেন। বিচারাধীন বিষয়ে আবার আদালতের সঙ্গে কথা বলা যায় নাকি!’
সন্ধ্যায় সুর বদল
বিকেলে যোধপুর পার্কে একটি জলাশয় পরিদর্শন করে করার পর মন্ত্রী বলেন, 'আমি পরিবেশকে সম্মান দিতে ভালবাসি। পরিবেশ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দূষণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যদি রবীন্দ্র সরোবরে অনুমতি না-পাওয়া যায়, তা হলে দক্ষিণ কলকাতায় ৫০টি জলাশয়ের আমরা ব্যবস্থা রাখছি ছটপুজোর জন্য।'
৯ বছর সরোবরে ছটপুজো বন্ধ
আগে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হতো। কিন্তু ছটপুজো মেটার পর ওই এলাকার পরিবেশ দূষণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতেন পরিবেশবিদরা। ঢাকঢোল বাজানোয় যেমন শব্দ দূষণ হত, তেমনই জল দূষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পেত। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিবেশপ্রেমীরা। চেয়েছিলেন, রবীন্দ্র সরোবরের মতো জাতীয় সরবোবরে বন্ধ হোক ছটপুজো। ২০১৭ সালে রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। তা সত্ত্বেও জোর করে সরোবরে ঢুকে কার্যত তাণ্ডব চালায় এক দল লোক। তা নিয়ে পরিবেশ কর্মীরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত ২০২০ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ রাখে। ফলত আদালতের নির্দেশে ৯ বছর ধরে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ। যদিও তৎকালীন তৃণমূল সরকার হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন।