
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর। অর্থাত্ ডেডলাইন চলে গিয়েছে। বিজেপি, মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস, বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, সবাই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে দুই কেন্দ্রেই। কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যেই ঝুলে রয়েছে আসল তৃণমূল কংগ্রেস ইস্যু। অর্থাত্ জোড়াফুল প্রতীক কোন শিবির পাবে, মমতার তৃণমূল নাকি ঋতব্রতর তৃণমূল। আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবারই সম্ভবত ফয়সালা জানিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন।
অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত জানাতে পারে কমিশন
সূত্রের খবর, আজ সম্ভবত জোড়াফুল প্রতীক ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত জানাতে পারে কমিশন। যদি তা জানিয়ে দেয়, তা হলে উপনির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীককে সামনে রেখেই লড়বে দুই শিবিরের মধ্যে একটি শিবির। এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। ১৬ সেপ্টেম্বর দুই শিবিরই কমিশনে চূড়ান্ত নথি জমা দিয়েছে। দুই শিবিরেরই দাবি, তারাই ঘাসফুল প্রতীকের দাবিদার। তার স্বপক্ষে একাধিক নথি জমা দিয়েছে কমিশনে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংবিধানিক সঙ্কট
আজ তা স্ক্রুটিনি করবে কমিশন। তারপর উপনির্বাচনকে মাথায় রেখে হয়তো একটি অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারে কমিশন। এই বিরোধের সূত্রপাত গত ২২ জুন। ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করা হয়। অরূপ রায়কে ওই কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ঋতব্রতর দাবি ছিল, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে একটি সাংবিধানিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতি তিনবছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতি নতুন করে গঠন করতে হয়।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে জাতীয় কর্মসমিতি গঠিত হয়েছিল, তার মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এরপর নতুন করে সেই কমিটি গঠন করা হয়নি। যদিও ঋতব্রতর এই দাবি মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। তাদের বক্তব্য, বিরোধী গোষ্ঠী তৃণমূলের সংবিধানের পুরনো একটি বিধানের উপর নির্ভর করছে এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধানে যে সংশোধনগুলি করা হয়েছে, তা উপেক্ষা করছে।
ঠিক কী চলছে তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরের মধ্যে?
দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও ঋতব্রত শিবিরের দাবিকে খারিজ করেছে মমতাপন্থী তৃণমূল। দলের বক্তব্য, সাংগঠনিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় যথাযথভাবে প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল এবং দলের সব সাংসদ ও বিধায়ককে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সদস্য করা হয়েছিল। ২২ জুনের ওই বৈঠককে বৈধ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। কারণ, দলের সাংগঠনিক কমিটি গঠনের জন্য যে বহুস্তরীয় নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, তা ওই বৈঠকের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের দাবি, ২২ জুনের বৈঠক তৃণমূলের সংবিধান মেনেই করা হয়েছিল। কোন পক্ষকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনই নেবে বলেও জানিয়েছে তারা।