
দলে ফাটল ধরা পড়ার পরেই বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার ৫৮ জন বিধায়কের সই করা চিঠি নিয়ে স্পিকারের হাতে জমা দিয়েছেন 'বিদ্রোহী' বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়। তার এক ঘণ্টার মধ্যেই চরম পদক্ষেপের ঘোষণা করল ঘাসফুল শিবির। দলের সমস্ত পার্টি কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলের তরফে জানানো হয়েছে, "পশ্চিমবঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কমিটি এবং এর সমস্ত সহযোগী সংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হল। অত্যন্ত ভাবনা চিন্তার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
পাশাপাশি পোস্টে লেখা হয়েছে, "দল প্রতিটি স্তরে আত্মসমীক্ষা, পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক মূল্যায়ন করবে। এই কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে মূল সংগঠন এবং সকল সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে যথাসময়ে তা ঘোষণা করা হবে।"
একইসঙ্গে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, "দল সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং নতুন উদ্যম ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
প্রসঙ্গত, বুধবার প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন সকালে 'বিদ্রোহী' ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিধানসভায় আসেন শিউলি সাহা, রিয়াজ হুসেইন, ভগবানগোলার বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, আক্রুজ্জামান, দিনেন রায়, সাবিনা ইয়াসমিন, সমীর জানা, অরুণাভ সেন, সমীর পাঁজার মতো বিধায়করা। ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমার মনে হয় আমাদের সঙ্গে ৫৯ জন বিধায়ক আছেন। আমিও সই করেছি।"
এরপর বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে নতুন বিরোধী দলনেতা হওরা দাবি জানালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মোট ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি দেওয়া হয়েছে স্পিকারের কাছে। এরমধ্যে ৫৮ জন সই করেছেন, আরও ২ জন বিধায়ক সই করবেন বলে জানা যাচ্ছে। স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী বিধায়করা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দলনেত্রী ও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।