
ইতিমধ্যেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। দেশনায়ককে নিয়ে প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। তার মাঝেই নেতাজি মূর্তির ডান হাত ভাঙার খবর সামনে এল খোদ কলকাতায়। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা এলাকায় তিন মাথার মোড়ের নেতাজির আবক্ষ মূর্তির ডান হাত ভেঙে দিয়েছে। আজ সকালে বিষয়টি নজরে আসে এলাকাবাসীর। তারপর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এই খবর সামনে আসার পর ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা নেতাজির মূর্তির ডান হাত ভেঙে দিয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানান বিজেপি কর্মীরা। পাশাপাশি বিষয়টি দলের রাজ্য নেতৃত্বকেও জানানো হবে বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। তারপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও অপমানজনক পোস্ট করা হয়েছে নেতাজিকে নিয়ে। সেই আবহেই নেতাজি অবমাননায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আইনত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর এই বিতর্কের মাঝেই নেতাজি মূর্তির হাত ভাঙার খবর সামনে এল। আর এই খবরেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে গিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতার সম্পাদক তারক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'গতকাল বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা যাবে না বলে সতর্ক করেছিলেন। কেউ এমন মন্তব্য করলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের সেবা কেন্দ্রগুলির নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র করার কথা বলা হয়।' এহেন ঘোষণার পর রাতের অন্ধকারে নিউ আলিপুরের ৮১ নম্বর ওয়ার্ডে নেতাজির মূর্তির ডান হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।
তারক দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এখন পুলিশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাল, কীভাবে মূর্তি ভাঙা হল, সেটা জানতে চাইছেন তারা। পাশাপাশি দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়ার দাবি উঠছে।