Advertisement

Anamika Roy-Babita Sarkar : বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ভগবান, ববিতার চাকরি যাওয়া নিয়ে আফসোস নেই : অনামিকা

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ববিতা সরকার চাকরি খুইয়েছেন। তাঁর জায়গায় চাকরি পাচ্ছেন অনামিকা বিশ্বাস রায়। ববিতার মতো তিনিও শিলিগুড়ির বাসিন্দা। মাননীয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই চাকরি পাচ্ছেন অনামিকা। চাকরি পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি অনামিকা। মুখ খুললেন বাংলা.আজতক.ইন-এ।

অনামিকা রায় ও ববিতা সরকার অনামিকা রায় ও ববিতা সরকার
সৌমেন কর্মকার
  • কলকাতা,
  • 17 May 2023,
  • अपडेटेड 7:59 PM IST
  • ববিতা সরকারকে নিয়ে বিস্ফোরক অনামিকা
  • সাক্ষাৎকারে একের পর এক তথ্য সামনে আনলেন অনামিকা

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ববিতা সরকার চাকরি খুইয়েছেন। তাঁর জায়গায় চাকরি পাচ্ছেন অনামিকা বিশ্বাস রায়। ববিতার মতো তিনিও শিলিগুড়ির বাসিন্দা। মাননীয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই চাকরি পাচ্ছেন অনামিকা। চাকরি পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি অনামিকা। মুখ খুললেন বাংলা.আজতক.ইন-এ। 

প্রশ্ন : অবশেষে চাকরি পেলেন। কেমন লাগছে ? 

অনামিকা : ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। ভালো লাগছে। আইনি লড়াই শেষে এই চাকরি পেলাম। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ছিল। মাননীয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায় যে রায় দিয়েছেন, তা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় আমার কাছে ভগবান। উনি না থাকলে কী হত জানি না। এছাড়াও আমার আইনজীবী আমাকে সাহায্য করেছেন। 

প্রশ্ন : ববিতা চাকরিটা ন্যায্যভাবে পাননি, সেটা কবে জানলেন ? 

অমানিকা : ঘটনাটা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি ববিতা সরকারের চাকরির অ্যাপলিকেশন ফর্ম দেখতে পাই। সেখানে আমি দেখি, অ্যাকাডেমিক স্কোরে ৩১ হওয়া উচিত। কিন্তু ৩৩ লেখা ছিল। ববিতার আবেদনপত্র অনুযায়ী, স্নাতক স্তরে ৮০০ নম্বরের মধ্যে ৪৪০ নম্বর পেয়েছিলেন ববিতা। শতকরা হিসাবে যা ৫৫ শতাংশ। কিন্তু, স্নাতক স্তরের প্রাপ্ত নম্বরের শতকরা হিসাব ৬০ শতাংশ বা তার বেশি উল্লেখ করা হয়েছিল আবেদনপত্রে। ভুলটা এখানেই ছিল। আমি নিজে বিষয়টা দেখি। তারপর ক্যালকুলেট করে দেখি, অ্যাকাডেমিক স্কোর থেকে ২ নম্বর কমে গেলে ববিবার Rank অনেকটা পিছিয়ে যায়। আর ওই চাকরিটা আমার প্রাপ্য। তারপর আমি হাইকোর্টে আবেদন করি। সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়। জানুয়ারি মাস থেকে  হেয়ারিং শুরু হয়। বাকিটা তো জানেন। 

প্রশ্ন : ববিতা সরকার দীর্ঘদিন আন্দোলন করে চাকরিটা পেয়েছিলেন। সেই চাকরি আপনি পেলেন। কোথাও খারাপ লাগা আছে ? 

অনামিকা : এটা ববিতা শুধু নয়, নম্বরের গরমিল থাকলে যে কোনও চাকরিজীবীর সঙ্গেই এটা হতে পারে। আমি আমার ন্যায্য প্রাপ্য-অধিকারের দাবিতে মামলা করেছিলাম। ববিতা সরকারের চাকরি গেল, এখন চাকরি পাওয়া কঠিন। এটা বুঝি। কিন্তু নম্বরের গরমিল থাকাটাও ঠিক নয়। ববিতা সরকার চাকরির যে ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। সেখানেই নম্বরের গরমিল ছিল। 

Advertisement

প্রশ্ন : বিষয়টা বুঝিয়ে বলুন 

অনামিকা : দেখুন, চাকরির আবেদনপত্রে চাকরিপ্রার্থীদের নিজেদের অ্যাকাডেমিক স্কোর লিখতে হয়। সেখানেই তো ভুল তথ্য দিয়েছিলেন ববিতা সরকার। দেখতে গেলে এটাও তো একটা বড় ভুল। এটা কাম্য নয়। আমরা যখন ফর্ম ফিলআপ করি তখনই কিন্তু স্বাক্ষর করে জানিয়ে দিই, যে তথ্য আমরা দিচ্ছি সেটা সত্য। তাহলে এই রকম ভুল হল কীভাবে ? আর সেই ভুলের দায় তো ববিতা সরকারেরই। দায় কমিশনেরও। তারাও খতিয়ে দেখেনি কেন ? 

প্রশ্ন : ববিতাকে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় বিচারপতি। কত টাকা পাবেন আপনি ? 

অনামিকা : পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী যে টাকা ববিতাকে দিয়েছিলেন, সেটাই আমাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোর্টের তরফে। এখনও হাইকোর্টের অর্ডারের কপি হাতে পাইনি। শুনেছি ১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার মতো। 

প্রশ্ন : আপনার পরিবারের সদস্যরা কতটা খুশি ? 

অনামিকা : খুব খুশি। এই লড়াইটা আমার একার ছিল না। আমার পরিবারের সবাই এই লড়াইটা লড়েছে। আমার দুই সন্তানও রয়েছে। আমার স্বামীও আমার পাশে ছিল সব সময়। তাই এই জয় পেয়েছি। 

প্রসঙ্গত, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতার নিয়োগে কারচুপির অভিযোগে তাঁর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেই চাকরি পান ববিতা সরকার। কিন্তু, ববিতাও ভুল তথ্য পেশ করেন আদালতকে। এই দাবি করে আদালতে অভিযোগ করেন অনামিকা। সেই মামলাতেই জয় মেলে তাঁর। 


    
Read more!
Advertisement
Advertisement