
মেসিকাণ্ডে খানিকটা হলেও স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। বুধবার এ কথা জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই রক্ষাকবচ লাগু থাকবে আগামী ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত।
বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয়তম তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির চতুর্দিকে গিজগিজে ভিড়ের ঠেলায় আর্জেন্টাইন এই তারকাকে সময়ের আগেই বাধ্য হয়ে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। দায়ী করা হয় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে। তাঁকে বারবার মেসিকে জাপটে ধরা থাকতে দেখা গিয়েছে, মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের। সেই বিতর্কিত 'GOAT ইভেন্ট' সংক্রান্ত ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে থানায় FIR করেন আয়োজক শতদ্রু ঘোষ। একাধিকবার তাঁকে বিধাননগর থানায় তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পাল্টা রক্ষাকবত চেয়ে মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে।
বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সেই মামলাতেই রক্ষাকবচ পেলেন। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর উপর এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ মঞ্জুর করেছে। তবে রাখা হয়েছে কয়েকটি শর্ত। আগামী ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে আদালতের এই সুরক্ষাকবচ।
কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে অরূপকে?
> তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যখনই তাঁকে তলব করবে, অরূপ বিশ্বাসকে সেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
> জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাক্তন মন্ত্রীকে যদি হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে সেই হাজিরার নোটিশ বা সমন অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁর কাছে পাঠাতে হবে। হঠাৎ করে বা অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে তাঁকে ডাকা হবে না।
> আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি বা নির্দেশ ছাড়া অরূপ বিশ্বাস তাঁর বর্তমান এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা ছেড়ে বাইরে অন্য কোথাও ভ্রমণ করতে পারবেন না।
তবে কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ বা অর্ডার ছাড়া পুলিশ প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রকার দমনমূলক বা কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না।
আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ কার্যকর থাকবে এবং ততদিন পর্যন্ত এই শর্তাবলী মেনে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই হাইপ্রোফাইল মামলার জল আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।