
অবশেষে দীর্ঘ কয়েক বছর অপেক্ষার পর হুগলির বলাগড়ে মিনি বন্দর তৈরির কাজে অগ্রগতি। সোমবার হয়ে গেল এই মিনি পোর্টের সংযোগকারী রাস্তার ভূমিপুজো। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকারও। এই ভূমি পুজোর ফলে মিনি পোর্টের সংযোগকারী রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বলাগড় মিনি পোর্টে কী লাভ হবে?
বলাগড় মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। সেখানে এই মিনি বন্দর তৈরি হলে, বিরাট লাভবান হবেন স্থানীয়রা। এই এলাকায় গঙ্গা থেকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি খাড়ি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গিয়ে আবার গঙ্গায় মিশেছে। মাঝে যে চর রয়েছে, সেখানেই হবে বন্দর। এখানে তৈরি করা হবে একটি পোর্ট টার্মিনাল, দু’টি জেটি এবং চার কিলোমিটার সংযোগকারী রাস্তা। সেই রাস্তাটিরই ভূমি পূজা হল সোমবার।
প্রায় ৯০০ একর জমি জুড়ে গড়ে উঠতে চলা প্রকল্পটি চালু হলে সড়কপথ, রেলপথ এবং অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহণের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের বাণিজ্যও উপকৃত হতে পারে। এর জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৫৩৯ কোটি টাকা।
অনুমান করা হচ্ছে, , এই উদ্যোগে সরাসরি প্রায় ১,৫০০ জন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫,০০০ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। আগামী দু’বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
বলাগড় মিনি পোর্ট হলে কলকাতা পোর্টের উপর থেকে চাপ কমবে কী করে?
আদতে বলাগড় থেকে কলকাতার দূরত্ব খুব বেশি দূর নয়। এই বন্দর তৈরি হলে মূলত পণ্য পরিবহণের বিকল্প কেন্দ্র তৈরি হবে। বিষয়টা সহজ করে বললে, এখন যে পণ্য কলকাতা বন্দর বা হলদিয়া বন্দরের মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়, তার একাংশ ভবিষ্যতে বলাগড়ের মতো অভ্যন্তরীণ জলবন্দর ব্যবহার করে পরিবহণ করা সম্ভব হতে পারে।