
শুক্রবার দুপুর গড়াতেই শুরু হল বৃষ্টি। সেকেন্ড-সেকেন্ডে পড়ছে বাজ। সেই সঙ্গে বর্ষণের সাক্ষী হচ্ছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাংশ। ওদিকে উত্তরবঙ্গেও একাধিক জেলায় ভালই বৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন, ঘূর্ণিঝড় কি তাহলে তৈরি হয়ে গিয়েছে? এখন এর গতিবিধি ঠিক কী? আর সেই বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
এই প্রসঙ্গে বলি, সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ বঙ্গোপাসগরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব তৈরি হতে চলেছে বলে দাবি করছেন। যদিও আইএমডি-এর পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। তবে একটা গভীর নিম্নচাপ বা শক্তিশালী সিস্টেম যে তৈরি হতে পারে, সেটা ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ঠিক কী?
ফের বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ বা নিম্নচাপজনিত শক্তিশালী সিস্টেমে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, বর্তমানে উত্তর থাইল্যান্ডের কাছে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সেটি শুক্রবার সন্ধের সময়ই উত্তর আন্দামান সাগরে পৌঁছে যেতে পারে। এর প্রভাবও পড়বে আবহাওয়ার উপর। এর জন্য শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। তারপর ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ব ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে যেতে পারে। তখন এটি নিজের শক্তি আরও বাড়াবে। এরপর তিন থেকে চারদিন সেটি ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে নিম্নচাপটি আদৌ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, সেই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে এটা সাইক্লোনে পরিণত হলেও হতে পারে।
আগেই বলেছি আইএমডি এখনও জানায়নি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে কি না। এমনকী এর নাম অর্ণব হবে কি না, সেটারও নিশ্চয়তা নেই। যদিও একাংশের দাবি যে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে সেটার নাম হতে পারে অর্ণব।
কবে স্পষ্ট হবে পরিস্থিতি?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখনও সাইক্লোন অর্ণব নিয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। মোটমুটি ২১ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ সোমবারই বিষয়টা আরও স্পষ্ট হতে পারে। তখন বোঝা যাবে আদৌ এটি তৈরি হবে কি না।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১৯ থকে ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা সহ একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যে কোথায় কোথায় বৃষ্টি?
শুক্রবার কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জারি রয়েছে কমলা সতর্কতা। হাওড়ায় রয়েছে লাল সতর্কতা। ভারী বৃষ্টি হবে। তবে দক্ষিণের অন্য জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ওদিকে গোটা দক্ষিণবঙ্গে আগামী রবিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই বিক্ষিপ্ত বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে শুক্রবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। আর অন্যান্য জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে।