Advertisement

৬ মাস ধরে বন্ধ বেলঘরিয়া ব্রিজ, এখন কাজ থমকে ভোগান্তি, পুজোর আগে খুলবে?

পূর্তদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উড়ালপুলের নীচে থাকা প্রায় ৪৮টি দোকান সরানো না গেলে বাকি গার্ডার পরিবর্তনের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এই দোকানগুলি চিহ্নিত করে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কামারহাটি পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দোকান উচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে কাজ শুরু হওয়ার সময় নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বেলঘরিয়া ব্রিজ।-ফাইল ছবিবেলঘরিয়া ব্রিজ।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 12 Jun 2026,
  • अपडेटेड 10:11 AM IST
  • উত্তর শহরতলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুলের সংস্কারকাজ কার্যত থমকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
  • প্রায় ছ’মাস ধরে উড়ালপুলটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

উত্তর শহরতলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুলের সংস্কারকাজ কার্যত থমকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় ছ’মাস ধরে উড়ালপুলটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে যাত্রীদের। যদিও রেললাইনের উপরের অংশে গার্ডার পরিবর্তন-সহ সংস্কারের কাজ প্রায় শেষের পথে, তবু উড়ালপুলের দু’প্রান্তে বাকি থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনও শুরুই করা যায়নি।

পূর্তদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, উড়ালপুলের নীচে থাকা প্রায় ৪৮টি দোকান সরানো না গেলে বাকি গার্ডার পরিবর্তনের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এই দোকানগুলি চিহ্নিত করে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কামারহাটি পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দোকান উচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে কাজ শুরু হওয়ার সময় নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

শনিবার পুরসভা, মহকুমা প্রশাসন, পূর্তদপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেন। দোকানের তালিকাও পুরসভার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দোকান সরানোর কাজ শুরু হলেই পূর্তদপ্তর অবিলম্বে সংস্কারের কাজে হাত দেবে। তবে বাকি কাজ শেষ করতে অন্তত দু’মাস সময় লাগবে। ফলে দুর্গাপুজোর আগেই উড়ালপুল খুলে দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুল দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কেঁপে উঠত বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা জানান, উড়ালপুলের একদিকে পাঁচটি এবং অন্যদিকে সাতটি গার্ডার জরুরি ভিত্তিতে বদলানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রেললাইনের উপরের অংশেও কাঠামোগত সংস্কার দরকার। সেই কাজের জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করে পূর্তদফতর।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে সম্পূর্ণভাবে উড়ালপুল বন্ধ করে মেরামতির কাজ শুরু হয়। রেলের অংশের কাজ প্রায় শেষ হলেও পূর্তদপ্তরের অধীনস্থ ১৪টি গার্ডার এখনও বদলানো বাকি। সেই কাজের জন্য উড়ালপুলের পিলারের পাশে থাকা দোকান সরিয়ে অস্থায়ী লোহার কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

Advertisement

এদিকে দোকান সরানো নিয়ে এখনও প্রশাসনিক জট কাটেনি। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানিয়েছেন, দোকানগুলি পূর্তদপ্তরের জমিতে রয়েছে। তাই উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ার দায়িত্বও পূর্তদপ্তরের। পাশাপাশি যেসব ব্যবসায়ীর দোকান সরানো হবে, তাঁদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে উড়ালপুল বন্ধ থাকায় বিরাটি, বেলঘরিয়া এবং সংলগ্ন এলাকার বিকল্প রাস্তাগুলিতে যানজট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বিশেষ করে ২ নম্বর ও ৮ নম্বর রেলগেট এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় রেলগেট এলাকায় যানবাহনের চাপ এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়ছে।

সব মিলিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় সংস্কারের কাজ পিছিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। এখন সকলের নজর দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ও সংস্কারকাজ কবে পূর্ণ গতিতে শুরু হয়, তার দিকেই।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement