
আগামী কয়েক মাসে পুলিশে নিয়োগ হবে। গত মঙ্গলবার কার্শিয়াং থেকে এই ঘোষণা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর বুধবার নবান্নে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ (MOU) স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই মউ স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।
তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশের বিরুদ্ধে বারবার শাসক শিবিরের দলদাসের থাকার অভিযোগ উঠেছে। আধিকারিকদের মেধাকে সেভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেই অভিযোগ। তবে সরকারের পালাবদলের পর পুলিশকে আরও আধুনিক করে তোলাই লক্ষ্য শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের। আর সে কারণেই বুধবার তাঁর পৌরহিত্যে নবান্নে রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রাজ্য পুলিশের মউ স্বাক্ষরিত হল।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটি রাজ্য পুলিশের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেয়। যদিও সেই সময় প্রস্তাব নিয়ে তৎকালীন রাজ্য় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। সরকারের পালাবদলের পর সেই মউ স্বাক্ষর হল। এই মউয়ের ফলে পুলিশের দক্ষতার প্রকৃত মূল্যায়ন করা যাবে বলেই আশা মুখ্যমন্ত্রীর। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, অসম, উত্তরাখণ্ড আগেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশের হাতে আধুনিক অস্ত্র না থাকায়, প্রশিক্ষণের অভাবে পুলিশের কাজে খামতি থেকেছে। আগামী দিনে পুলিশে নিয়োগ হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্রেনিং নিয়ে বসে থাকা ১৬০০০ কনস্টেবলকেও কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দুর মতে, 'পুলিশে কর্মী সংখ্যা কম থাকার ফলে যে আশা-প্রত্যাশা করেন সাধারণ মানুষ তার থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছে। সে কারণে আরও নিয়োগ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ব্যবস্থা করা হবে।' আইপিএস, ডব্লুপিএস, ইন্সস্পেক্টর, সাব ইনস্পেক্টররা এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেবেন। পড়ুয়ারাও অংশ নিতে পারবেন। সাইবার ক্রাইম, ডার্ক ওয়েব, এআই, ফরেন্সিক সায়েন্স, বর্ডার ইন্টেলিজেন্স, নারী পাচার রোধ – সহ একাধিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, পুজোর আগেই কলকাতা পুলিশে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের কথা। জুনের শুরুতে প্রশাসনিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি পুলিশের আধুনিকীকরণের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশে মোট চার হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। এই পদে আবেদনের জন্য সাধারণত বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের তরফে। সংশ্লিষ্ট পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হয়। সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় থাকে। কলকাতা পুলিশের নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিযুক্তদের প্রতি মাসে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
আবেদনকারীদের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হতে হয়। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় লেখা, পড়া এবং কথোপকথনে স্বচ্ছন্দ হতে হয়। তবে দার্জিলিং বা কালিম্পং জেলার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কলকাতা পুলিশে কর্মরত হোমগার্ড এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা যদি চাকরিতে তিন বছর সম্পূর্ণ করে থাকেন, তা হলে তাঁরাও সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়াও শারীরিক পরিমাপের মাপকাঠি ধার্য করা হয় এই পদগুলিতে আবেদনের জন্য, যা মূল বিজ্ঞপ্তিতে বিশদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে প্রিলিমিনারি লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক পরিমাপের পরীক্ষা (পিএমটি), শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা (পেট), চূড়ান্ত পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পদগুলিতে কর্মী নিয়োগ করা হয়।
এর আগেও পুলিশ কর্মীদের জন্য সুখবর দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ ১৫ বছর অথবা তার বেশি চাকরি করছেন যে পুলিশ কনস্টেবলরা, তাঁদের নিজেদের জেলাতেই পোস্টিং দেওয়া যায় কি না, রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে সেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ একই সঙ্গে মহিলা পুলিশকর্মীদেরও বাড়ির যতটা সম্ভব কাছাকাছি জেলায় পোস্টিংয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী৷
তবে পুলিশকে আইন মেনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাঁর কথায়, এতদিন শাসকের আইন চলত, এবার থেকে আইনের শাসন চলবে৷