
কলকাতায় দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর সতর্ক পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতর। সবরকমভাবে তৈরি থাকতে চাইছে তারা। সেই মতো শহরের ভিড় টানা পাঁচটি বড় দুর্গাপুজো মণ্ডপে চিকিৎসক মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেই এহেন উদ্যোগ।
ইতিমধ্যেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ছুটিতে থাকা আইএএস আধিকারিকদেরও অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
কী বলেছে স্বাস্থ্য দফতর?
স্বাস্থ্য দফতর নির্দেশে জানিয়েছে, ১৯ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত, অর্থাৎ দুর্গাপুজো শেষ হওয়া পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত পাঁচটি পুজো মণ্ডপে চিকিৎসক উপস্থিত থাকবেন। সেখানে চিকিৎসক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদমর্যাদার চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত দল মোতায়েন রাখা হচ্ছে।
কোথায় কোন হাসপাতালের চিকিৎসক?
নীলরতন সরকার (এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের শিয়ালদার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোয় মোতায়েন করা হবে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল থাকবে টালা প্রত্যয় পুজো মণ্ডপে।
কলেজ স্কোয়ারের বিখ্যাত দুর্গাপুজোর দায়িত্বে থাকবেন মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। একডালিয়া এভারগ্রিনে মোতায়েন করা হবে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের। অন্যদিকে চেতলা অগ্রণী পুজো মণ্ডপে দায়িত্ব সামলাবেন এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, উৎসবের দিনগুলিতে শহরের বড় হাসপাতালগুলির জরুরি বিভাগ সম্পূর্ণ সচল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে ট্রমা বা গুরুতর আহত রোগীদের জরুরি সার্জারিতে দেরি না হয়, তার জন্য অর্থোপেডিক সার্জন, নিউরোসার্জন এবং অ্যানাস্থেটিস্টদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আসলে শনিবার উত্তর কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। তাতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহতের সংখ্যা ২৫। তারপরই এহেন ব্যবস্থা নিল স্বাস্থ্য দফতর।
এ দিকে দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বর এবং টাকিতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিপুল জমায়েতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে উত্তর ২৪ পরগনার স্বাস্থ্য প্রশাসনকেও অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা সাসপেন্ডও করা হতে পারে।
যদিও সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস। তাদের দাবি, হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে দ্রুত চিকিৎসা করার যেই ধরনের পরিকাঠামো থাকে, সেটা পুজো মণ্ডপে থাকে না। তাই সেখানে আপৎকালীপ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু চিকিৎসক দিয়ে কিছুই হবে না। সেক্ষেত্রে এটাকে 'আইওয়াশ' বলেই মনে করছে তারা।