
তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে এখন রাজ্যে চলছে ‘ডিম থেরাপি’। এমনকী স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর শিকার হয়েছেন। বাদ গেলেন না প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীও। এদিন তোলাবাজি, হুমকি, মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলার দেবরাজ চক্রবর্তীকে বারাসাত আদালতে তোলা হয়। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। দেবরাজ চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করে চলে ডিম-বর্ষণ। যদিও ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের গায়ে ডিম পড়েনি। সেই ডিম গিয়ে পড়ে পুলিশের গাড়িতে।
দেবরাজ চক্রবর্তীর প্রিজন ভ্যানকে উদ্দেশ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। বৃহস্পতিবার দেবরাজকে আনার আগেই আদালতের সামনে উপস্থিত হয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তখনই বিজেপির কর্মীরা বলেন, বড় চোরকে নিয়ে আসছে, আমরা কেন এখান থেকে যাবো? তৃণমূলের দলটা একটি অশিক্ষিত দল।
আদালতে দেবরাজকে যতটা সম্ভব ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশ কর্মীরা। দেবরাজকে দেখা মাত্রই রব ওঠে, সঙ্গে ধেয়ে আসতে থাকে একের পর এক ডিম। উত্তেজনার মাঝেই মাথায় টুপি পরে বারাসত আদালতের ভিতরে ঢুকে যান দেবরাজ।
পুরনো মামলার জেরে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে হাজির করানো হবে— এই খবর আগেভাগেই ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকায়। ফলে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু কৌতূহলী মানুষ। তাঁদের অনেকের হাতেই ছিল ডিমের প্যাকেট। দেবরাজকে গাড়ি থেকে নামানোর পরই শুরু হয় ডিম-বর্ষণ। তবে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সেই ‘মনোবাঞ্ছা’ পুরোপুরি সফল হয়নি, দেবরাজকে আড়াল করে সুরক্ষিত অবস্থায় ভেতরে নিয়ে যায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, ডিম ছোড়া নিয়ে সতর্ক করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ডিম থেরাপির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, এ ধরনের ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত, সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। অদিতি মুন্সি তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কও। সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ এলাকায় প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, তা গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে অদিতির বিরুদ্ধে।
বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, জমি দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, রাজারহাট ও নিউ টাউন-সহ একাধিক এলাকায় তাঁর নামে বিপুল পরিমাণ জমি ও ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ECIR নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেবরাজ বরাবরই দাপুটে নেতা হিসাবেই পরিচিত তাঁর নিজের এলাকায়৷ ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সরকারে মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর আপ্তসহায়ক হিসাবে কাজ শুরু করেন দেবরাজ। অচিরেই রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর জনপ্রিয়তা তৈরি হয়।