
BJP Fish Politics: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই প্রতিটি পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো ‘মাছ-ভাত’। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সেই মাছ নিয়েই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। রবিবার ছুটির সকালে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ সারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দেখা গেল এক্কেবারে ভিন্ন মেজাজে। সল্টলেকের আইএ (IA) ব্লকের বাজারে হাতে একটি পেল্লায় ‘কাতলা’ মাছ নিয়ে প্রচারে নামলেন তিনি। ভোট চাইতে গিয়ে প্রার্থীর এই মৎস্য-বিলাস দেখে কার্যত থমকে গেলেন বাজার করতে আসা আমজনতা। কিন্তু কেন এই অভিনব অবতার? ডাক্তারবাবুর দাবি, তাঁর এই মাছ ধরা আসলে রাজনৈতিক বিরোধীদের এক মোক্ষম জবাব।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছড়াচ্ছে। মানুষের মনে ভয় ঢোকানো হচ্ছে এই বলে যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি বাঙালির প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকী রাজ্যকে পুরোপুরি ‘নিরামিষ’ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও অপপ্রচার চলছে। এই অভিযোগের পালটা দিতেই এদিন বাজারে মাছ হাতে দাঁড়িয়ে সারদ্বতবাবু সাফ জানালেন, “বাঙালির সংস্কৃতি আর মাছ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিয়ে থেকে যে কোনও শুভ কাজ, মাছ ছাড়া আমাদের চলে না। বিরোধীরা বলছে আমরা নাকি মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেব? অথচ এই শাসনামলে মাছের যা আকাশছোঁয়া দাম, তাতে সাধারণ মানুষ এক টুকরো মাছ কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে।”
এদিন মাছ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের আশ্বস্ত করে পদ্ম শিবিরের এই প্রার্থী দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ-ভাতে নিষেধাজ্ঞা তো দূরস্ত, বরং সাধারণ মানুষ যাতে সুলভে আরও বেশি করে মাছ খেতে পারেন, সেই ব্যবস্থাই করা হবে। তাঁর কথায়, “বিজেপি সরকার গড়লে মানুষ এখনকার চেয়ে দ্বিগুণ মাছ খাবে!” বিধাননগরের অভিজাত এলাকার বাজারে প্রার্থীর এই ‘মৎস্য-কূটনীতি’ নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে উন্নয়ন আর অন্যদিকে বাঙালির রসনা। এই দুই অস্ত্রকে হাতিয়ার করেই যে বিধাননগরের বৈতরণী পার হতে চাইছেন ডাক্তারবাবু, তা এদিনের প্রচার থেকেই স্পষ্ট।