
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই হকারদের প্রতি অত্যাচার করছে বিজেপি পরিচালিত সরকার। অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁর দাবি, হকারদের জীবীকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এতে অনেকের ক্ষতি হচ্ছে। সংসারে বিপর্যয় নেমে আসছে।
আজ মঙ্গলবার হকারদের উচ্ছেদের অভিযোগ তুলে সোশ্য়াল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন মমতা। সেই পোস্টে হকারদের নিয়ে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেন। এক সঙ্গে দাবি করেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট এর আগে একাধিকবার হকারদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। সেই সব রায় থেকেই পরিষ্কার যে হকারদের জীবীকার অধিকার আসলে মৌলিক অধিকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার হকারদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে, উচ্ছেদ করছে, তাদের দোকান ভেঙে দিচ্ছে, তাদের চোখের জলকে তোয়াক্কা না করে তাদের পথে বসাচ্ছে সেটা দেখে আমি বিস্মিত, ক্রুদ্ধ, মর্মাহত। অত্যাচারীরা এর জবাব নিশ্চয়ই পাবে। আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।'
মমতার আরও দাবি, দেশের অর্থনীতিতে হকারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর কথায়, 'উন্নয়নশীল দেশগুলির কর্মসংস্থানে এই অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রটির ভূমিকা অপরিসীম। হকাররা লাখ লাখ মানুষের স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেন,যার ফলে বহু নিম্নবিত্ত পরিবার কর্পোরেট বা সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।'
প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় এসেই কলকাতার নানা রাস্তাকে অবৈধ দখলদারি থেকে মুক্ত করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাস,শিয়ালদা, হাওড়া স্টেশনের মতো জায়গাকে দখলমুক্ত করেছে। তার প্রতিবাদে শনিবার বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়, বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের তরফে হকারদের পুর্নবাসনের দাবি জানানো হয়।