Advertisement

কলকাতা পুরভোটে BJP টিকিট দেবে আম আদমিকেও, কীভাবে প্রার্থী হবেন? জানুন

পুরভোটে পেশাদার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী করার বিষয়ে আগ্রহী বিজেপি। সাধারণ মানুষকেও সুযোগ দেওয়া হবে। সুকান্তর কথায়, কলকাতা পুরসভার নির্বাচন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়। শহরের উন্নয়ন কোন পথে এগোবে, তা ঠিক করার জন্য কলকাতার বাসিন্দাদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সুকান্ত মজুমদার সুকান্ত মজুমদার
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 11 Oct 2026,
  • अपडेटेड 10:04 PM IST
  • কলকাতা পুরসভায় স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার
  • তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শহরে ‘প্রোমোটার রাজ’-এর অবসান ঘটানো হবে

কলকাতা পুরসভার আগামী নির্বাচনে ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করল বিজেপি। শুধু দলের নেতা-কর্মী নন, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী-সহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পুরভোটে বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার। রবিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনা, জনসমক্ষে ভাবমূর্তি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ নজর দেওয়া হবে যুবসমাজের উপরও।

সুকান্ত মজুমদার জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া রয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত নাম ঠিক করা হবে। পুরভোটে লড়তে আগ্রহীদের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য কলকাতার ৬, মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি ড্রপ বক্স রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

সমাজের বিশিষ্টদের প্রার্থী হওয়ার আহ্বান

পুরভোটে পেশাদার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থী করার বিষয়ে আগ্রহী বিজেপি। সুকান্ত বলেন, সমাজের প্রত্যেকেই রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। কিন্তু চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবীর মতো বহু বিশিষ্ট মানুষ রয়েছেন। তাঁদের শুধু দূরে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখলে চলবে না। সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সুকান্তর কথায়, কলকাতা পুরসভার নির্বাচন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়। শহরের উন্নয়ন কোন পথে এগোবে, তা ঠিক করার জন্য কলকাতার বাসিন্দাদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

'প্রোমোটার রাজ' বন্ধের বার্তা

কলকাতা পুরসভায় স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শহরে ‘প্রোমোটার রাজ’-এর অবসান ঘটানো হবে। রাজ্য সরকার এবং পুরসভার মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করার উপরেও জোর দেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ও স্থানগুলির পরিচিতি বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উল্লেখ করেন সুকান্ত।

বাম ও তৃণমূলকে নিশানা

কলকাতার অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, দুই দলের শাসনেই শহরের অর্থনীতি ও কাজের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জল জমার সমস্যা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির অভাব নিয়েও সরব হন তিনি।
তবে অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে সময় নষ্ট করতে চান না বলে জানান সুকান্ত। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি কলকাতাকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায়।

Advertisement

যুবদের জন্য কী পরিকল্পনা বিজেপির?

কলকাতার ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, বিজেপি যুবকদের শুধুমাত্র দর্শক বা ভোটার হিসেবে দেখতে চায় না। প্রতিটি ওয়ার্ডে যুবক-যুবতী ও পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করে স্টার্টআপ, দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা এবং গণপরিবহণের মতো বিষয় নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

বিজেপি সরকারের কাজের প্রসঙ্গ তুলে সুকান্ত দাবি করেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ সরানো হয়েছে এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হয়েছে। কোথাও এখনও সিন্ডিকেট সংস্কৃতি চালু থাকলে, তা সরকারকে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি। এছাড়াও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তির মতো উদ্যোগের কারণে সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে বলেও দাবি করেন সুকান্ত।

কবে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন?

কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য নির্বাচন কমিশন দ্রুত ভোটের দিন ঘোষণা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি জানান, বিজেপি প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষের কাছে পৌঁছে স্থানীয় সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি, সেই সমস্যার সমাধানে দলের তরফে নির্দিষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরা হবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement