
তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আর তাঁর আবেদন শুনেছে রাজ্যের শীর্ষ আদালত। কোর্টের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গিরকে অন্তবর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদেক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সুগত ভট্টচার্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, জাহাঙ্গিরকে যেন নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁকে যেন ভোটের আগে গ্রেফতার না করা হয়।
এতদিন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে যেই যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, সেগুলিতে সুরক্ষা পাবেন জাহাঙ্গির। এই রক্ষাকবচ ২৪ মে পর্যন্ত থাকবে। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
কী জানিয়েছে পুলিশ?
এই দিন আদালতে পুলিশ জানায়, ফলতা থানায় ৫ মে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে প্রথম এফআইআর দায়ের হয়। তারপর ১০ মে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর দায়ের হয়। এরপর ১৫ মে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে পঞ্চম মামলাটি রুজু হয়।
জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ভোট কারচুপির মতো অভিযোগ রয়েছে। আর এই মামলাগুলিতেই জাহাঙ্গিরকে রক্ষাকবচ দিল আদালত। যার ফলে তাঁর নির্বাচনের সময় এলাকায় থাকার বিষয়ে আর কোনও বাধা রইল না।
মাথায় রাখতে হবে, ফলতার নির্বাচনের আর মাত্র ৭২ ঘণ্টা বাকি রয়েছে। আর এমন সময়ই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নাড়লেন। তিনি রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতে আগাম সুরক্ষাকবচ চাইলেন।
জাহাঙ্গিরের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মিথ্যে FIR করা হয়েছে। এই সব মামলাগুলি করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য। এমন পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের কাছে তিনি নিজের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা চেয়েছেন।
নিজের পিটিশনে জাহাঙ্গির দাবি করেন, তিনি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করছেন। তিনি প্রচারের একবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। আর এমন পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু মিথ্যে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দিতে চাইছে না পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারেও বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন জাহাঙ্গির। তাই তিনি হাই কোর্টে গিয়ে আগাম সুরক্ষা চেয়েছিলেন।
মাথায় রাখতে হবে, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির। 'ডায়মন্ড হারবার মডেল' তৈরি করতে তিনি অভিষেককে সাহায্য করেছেন বলে শোনা যায়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে মারধর থেকে শুরু করে ভোটারকে ভয় দেখানো সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ। এমনকী ছাব্বিশের ভোটের আগেও জাহাঙ্গির এই কাজটা করেছেন বলে দাবি করছে বিরোধীরা। যেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। আর সেই সব মামলাতেই রক্ষাকবচ পেলেন জাহাঙ্গির।