
আশঙ্কা ছিলই। তবে কি সেটাই সত্যি হল? বুধবার দুপুরে একটি ভিডিও ভাইরাল হল। তাতে দেখা গেল, রামধনু রং করা বৃষ্টিভেজা রাস্তায় পর পর কয়েকটি বাইক পিছলে গেল। ঘটনাস্থল চিংড়িঘাটা উড়ালপুল বলে দাবি। তারপরই জল্পনা এটা কি আসল ভিডিও? নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি? সন্ধেয় সত্যিটা বলে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে রামধনুর সাত রঙে রং করা হয়েছিল। কিন্তু সেই উড়ালপুলের বাঁক ঘুরতে গিয়ে পর পর তিনটি বাইক পিছলে পড়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে তোলা বলে দাবি করা ওই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, উড়ালপুলের উপর বাঁক ঘোরার সময়ে পর পর তিনটি মোটরবাইক পিছলে পড়ছে। উড়ালপুলে সদ্য রং করার সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। রাস্তায় রং করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। প্রথমত, করের টাকায় কেন এমন অহেতুক খরচ? দ্বিতীয়ত, বৃষ্টি পড়লে রং তৈলাক্ত হওয়ায় পিছলে যাওয়ার ভয়। আর তৃতীয়ত, উড়ালপুলে বাইক বা গাড়ি চালাতে গিয়ে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
কী বললেন অগ্নিমিত্রা
শুরুতে অনেকে দাবি করেছিলেন, এটা এআই ভিডিও। তবে তার সত্যতা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান,'একটা মোটরবাইক পড়ে গেল। সামনের মোটরবাইককে ধাক্কা মারল। সে-ও পড়ে গেল। কেন পড়ে গেল, সেটা আমরা জানি না। পুলিশকে জানানো হয়েছে। যে রং ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা অ্যান্টি-স্কিড। পড়ে যাওয়ার বিষয় নেই। অনেকে বলছে, রঙে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। যদি মানুষের অসুবিধে হয়, সেটা ভাবা হবে। অসুবিধা মনে হলে বিকল্প ব্যবস্থা করব'।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানতে চান, রাস্তা রং করার সঙ্গে দুর্ঘটনার যোগ রয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ আছে কিনা। তাঁর কথায়,'রং করার জন্য কি দুর্ঘটনা ঘটে? কতগুলি উড়ালপুলে দুর্ঘটনা ঘটেছে?' শহরের সৌন্দর্যায়নের অংশ হিসাবে একাধিক উড়ালপুলে রং করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে আর কোনও মন্তব্য করবেন না বলেও স্পষ্ট করে দেন।
পরে অগ্নিমিত্রা জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যাবেন। দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।