
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম দুর্গাপুজো। আর প্রথম বছরেই ভয়াবহ ঘটনা। সপ্তমীর রাতে কলকাতায় মৃত্যুমিছিল দেখল গোটা দেশ। ইতিমধ্যেই রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে কলকাতায়। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পর পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কমিটির সমস্ত পদাধিকারী পদত্যাগ করেছেন। আজ অর্থাত্ শনিবার ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও বিপুল জনসমাগমের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর মণ্ডপের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
কমিটির তরফে প্রকাশিত পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি বছরের দুর্গাপুজো সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্য ও কার্যনির্বাহী পদাধিকারীরাও তাঁদের পদ ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী দিনে নতুন কমিটি পুজোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পর দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
আজ অর্থাত্ শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ প্রবল বৃষ্টির কারণে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে। গিরিশ পার্ক থানার অন্তর্গত সারদা পার্কের চোরবাগান পুজো মণ্ডপের বেরোনোর পথে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হ্ছে, তখন ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহত হন আরও বহু মানুষ। প্রায় ৪০ জনকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সংকীর্ণ পথ ও অন্ধকার
দুর্ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার ছবি। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বহু মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। কয়েকজনকে মোটরবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ অত্যন্ত সরু। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল নেই। দুর্ঘটনার পর তাঁর মেয়ে ও নাতনিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা পরে তদন্ত করে দেখা হবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আহতদের জীবন বাঁচানো এবং তাঁদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। প্রশাসনের পাশাপাশি দলের কর্মীরাও সাহায্যের কাজে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
শান্তির বার্তা দিতে গিয়েই বিতর্কের কেন্দ্রে
এ বছর ৯১তম বর্ষে পা দিয়েছিল চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো। এবারের থিম ছিল ‘আরোব’। বাংলা অর্থে শব্দ ও কোলাহল থেকে দূরে সরে গিয়ে শান্তি ও প্রশান্তির সন্ধান। সেই ভাবনায় দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের ধ্যানমগ্ন রূপে তুলে ধরা হয়েছিল।
দেবীর সামনে মহিষাসুরকেও অস্ত্র সমর্পণ করতে দেখা যায়। হিংসা, সংঘাত ও বিদ্বেষের পরিবর্তে শান্তি ও সংযমের বার্তা দেওয়াই ছিল আয়োজকদের উদ্দেশ্য। কিন্তু উৎসবের আবহে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এখন পুজো কমিটির দায়িত্ব, জননিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।