
সপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর পিছনে একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম হল মাইকে ঘোষণা। যার ফলে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সে দিন মণ্ডপে মাইকিং করা সেন্টু ওরফে সঞ্জীব রাহাকে আগেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বার আরেক ঘোষকেও আটক করা হল। তাঁর নাম কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া। জানা যাচ্ছে, মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে, চিত্কার করে মাইকে ঘোষণা করেছিলেন কুশল। সেন্টু ও কালিয়ার গলার আওয়াজের নমুনা পরীক্ষা চলছে।
মাইকে ঘোষণা হয়, ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে!’
জানা যাচ্ছে, কালিয়া ওরফে কুশল মজুমদার পেশায় অ্যাপ ক্যাব চালক। চোরবাগান সর্বজনীনের সঙ্গে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত। সেই কালিয়াকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে গিরিশপার্ক থানা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে যখন মণ্ডপে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে একটা ঘোষণা হয়, ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে!’ অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে আরও আতঙ্ক তৈরি হয়। কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আগেই সন্দেহভাজন দুই ঘোষককে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক জনকে গ্রেফতার করা হলেও অপর জনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে সেই দ্বিতীয় ব্যক্তিকেও আটক করা হল।
কালিয়া নিজেই আত্মসমর্পণ করেছে, দাবি স্ত্রীর
একটি সংবাদমাধ্যমকে কুশল মজুমদারের স্ত্রী দাবি করছেন, তাঁর স্বামী নিজেই বৃহস্পতিবার রাতে থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর কথায়, ' গতকাল রাতে ও (কুশল) নিজেই থানায় গিয়ে সারেন্ডার করেছে। ঘটনার দিন ও বাড়িতে এসেছিল। তারপর জামা কাপড় ছেড়ে আবার মণ্ডপে গেছিল, যে মানুষরা বিপদে পড়েছে, তাদের সাহায্য করতে। কিন্তু ও ফোন নিয়ে যায়নি, তাই ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি আমি। তারপর যখন ফোনে পাই, তখন ও বলে, আমাকে থানায় যেতে হবে। আমি একা যাব। কিন্তু পুজোর কিছু সদস্য আমাকে বারণ করছে থানায় যেতে। তারপরেই ও গা ঢাকা দিয়েছিল। তারপর ও যখন দেখল, লুকনোটা ঠিক নয়, কারণ ও কোনও দোষ করেনি, আমরা কেউই কোনও দোষ করিনি, একটা দুর্ঘটনা হয়ে গিয়েছে। তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাতে সারেন্ডার করেছে। ওকে সে দিন বলা হয়েছিল, প্যান্ডেলের ভিতরটা ভেঙে পড়ছে, তুমি তাড়াতাড়ি মাইকে ঘোষণা করো। সেই জন্যই ও মাইক ধরেছিল। ও ভাল করে কথাই বলতে পারে না, মাইকিং কখনও করেওনি। ওকে মাইকিং কে করতে বলেছিল, সেটা ওই জানে। ওকে জিগ্গেস করলেই বলে দেবে।'
এর আগে সেন্টুকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ
বৃহস্পতিবারই নদিয়া থেকে চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিপর্যয়ের পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দু’জনকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সেন্টু ছিলেন। তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই সেন্টুর মোবাইল বন্ধ ছিল। গোপন আস্তানা থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্য অন্য নম্বর থেকে পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন সেন্টু। সেই সূত্র ধরেই নদিয়া থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।