
দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাতেই বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা। শনিবার সপ্তমীর রাতে শহরের চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। জখম আরও ২৫ জন। ঘটনায় রাজ্যজুড়েই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই ঘটনার দায় কার? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভয়ঙ্কর ঘটনার খবর পেয়েই নিজে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান। মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী জানান, আহতরা নিজেদের পছন্দের যে কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন এবং সেই চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার।
কীভাবে তদন্ত হবে?
পদপিষ্টের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা হাইকোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট এই ঘটনার তদন্ত করবে। ওই দলে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), সিআইডি এবং অন্যান্য দফতরের সদস্যরা থাকবেন। তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একজন বর্তমান বিচারপতি নিয়োগ করার অনুরোধ জানিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার সময় ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি-রাউডি সেকশন (ARS)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ফুটেজ খতিয়ে দেখব এবং যাঁরা ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুজো কমিটির কোনও সদস্য, হোমগার্ড, অস্থায়ী কর্মী, পুলিশকর্মী কিংবা বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী, যেই হোন না কেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তর কলকাতার চোরবাগানে একটি সর্বজনীন দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তাদের তরফে করা ঘোষণার জেরে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি। পুজোর আয়োজক ক্লাবের আধিকারিক, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং কর্তব্যরত আধিকারিকদের আটক করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।