
সোমবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শেষ পর্বে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা কঠোর করতে নতুন বিল পেশ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ এবং 'ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেইনেন্স ফর পাবলিক অর্ডার (অ্যামেডমেন্ট) বিল, ২০২৬' -এই বিল দুটিই সোমবার বিধানসভায় পেশ করা হয়। এরপরই বিলের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তোলেন কয়েকজন বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সেই বিষয়ে প্রশ্নও তোলেন কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক। এরপরেই গুন্ডা দমন বিল কেন দরকার, তার স্বপক্ষে একাধিক কারণ উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী ঠিক কী কী বললেন?
১) তৃণমূলকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন বিধানসভায় বিশেষ অনুমতি নিয়ে গ্যালারিতে হাজির ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের রাজু সামন্তের পরিবার, ধুলিয়ানের হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের পরিবার, নন্দীগ্রামের দেবব্রত মাইতি ও সোনাঝুড়ার রথীবালা আরি। তাঁদের সামনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার তৎকালীন আইনে ব্যবস্থা নেয়নি বলে এই ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তাই এই আইন আনা হচ্ছে।
২) বিরোধী TMC কে কটাক্ষ শুভেন্দুর
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "শক্তপোক্ত বিরোধীও হতে পারেননি। কেউ বের হচ্ছেন। আবার কেউ জামা ধরে টানছেন। কেউ বলছেন আমিই তৃণমূল, আবার অন্যজন বলছে ওরা ল্যাম্পপোস্ট। ঠিক এই কারণেই আপনাদের এই দশা।"
৩) ২০১৯-এর হিংসা ও ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’র স্মৃতিচারণ
২০১৯ সালে এ রাজ্যে CAA ও NRC-এর নামে যে ব্যাপক তাণ্ডব চলেছিল, এ দিন তার বিশদ বিবরণ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “ ছোট ছোট বাচ্চাদের ধর্মীয় পোশাক পরিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছিলেন। ভুল বুঝিয়ে বলেছিলেন, এটা সিএএ নয়, এনআরসি; সবার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আর এর পরেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’ স্লোগান দিয়ে সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করলেন। চারদিকে আগুন জ্বলল।”
৪) ভিটেমাটি বেচে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাঙ্গাবাজ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হুঁশিয়ারি দেন। এই আইন কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অপপ্রয়োগের জন্য আনা হয়নি। এর একমাত্র লক্ষ্য— দাঙ্গা, অশান্তি এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের সংস্কৃতি রোখা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আসানসোলে আমরা দাঙ্গাকারীদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেখিয়েছি। এবারও দরকার হলে দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে পাইপয়সা উসুল করা হবে, এবং তা অত্যন্ত দ্রুত করা হবে। পার্ক সার্কাসে পুলিশের ওপর ঢিল মেরে, মাথা ফাটিয়ে রক্ত ঝরিয়ে ভাবছেন পার পেয়ে যাবেন? আগে কালীঘাট থানায় টেবিলের তলায় পুলিশ লুকাত, কিন্তু মনে রাখবেন— এই পুলিশমন্ত্রী আলাদা। আগের সেই প্র্যাকটিস আর চলবে না। এই আইন শুধুমাত্র গুন্ডা ও দাঙ্গাকারীদের দমনের জন্য প্রযোজ্য। শুধু জেল খাটাব না, সব প্রপার্টি নিলাম করব" বিধানসভায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর।
৫) ভাঙড় নিয়ে নওশাদ সিদ্দিকীকে বললেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এবারের নির্বাচনে ভাঙড়ে একটাও মৃত্যু ঘটেনি। আমরা ভাঙড়কে ছেড়ে দিতে পারতাম। যা খুশি হতে দিতে পারতাম। তাহলে আজ যিনি এই বিলের বিরোধিতা করছেন (নওশাদ সিদ্দিকি), তিনি এই হাউসে আসতে পারতেন না; বরং যিনি এখন জেলে আছেন (আরাবুল ইসলাম), তিনি এখানে বসে থাকতেন।”
৬) হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন শুভেন্দু
হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত ভাষা নিয়ে তাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থেকেই এই ধরনের ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে। ‘সবক শেখানোর সময় এসেছে’বলেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, হুমায়ুন কবির নিজের ছেলেকে উপনির্বাচনে জেতানোর জন্য উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন।
৭)'পেন-এর সঙ্গে দোয়াতকেও যেতে হবে'
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "একজন বলেছেন কালি তো গিয়েছে, দোয়াত আর পেন যায়নি কেন? পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয় তবে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। আরে কালির সঙ্গে যদি পেন যায়, তাহলে পেন-এর সঙ্গে দোয়াতকেও যেতে হবে।"
৮) কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর
২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান করতে ভিক্টোরিয়ার সামনে ফিতা দিয়ে জায়গা মাপার প্রসঙ্গে এদিন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের দলকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ফিতে নিয়ে মাপতে যাওয়ার অধিকার কে দিয়েছেন? অনুমতি চাইবেন। কোথায় দেব, বলে দেব। আপনাদের অনেক লোক হয়। ৩০ লক্ষ লোক হয়...২০১১ সালে তো ব্রিগেডে গিয়েছিলেন। এবারও তাহলে ওখানে করুন। সাহস আছে? লোক আসবে না আপনাদের সভায়।"
৯) হুমায়ুনকে চরম হুঁশিয়ারি
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "নয়দার বিধায়ক ভাষা ঠিক না করলে ওনার অবস্থাও খারাপ হবে। উনি এতদিন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ডিল করেছেন। এবার আমাকে ডিল করতে হবে। আমাকে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী ভাববেন না।"
১০) বিরোধীদের আশ্বস্ত করলেন শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করব না। কিন্তু সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা, জীবনতলার খুনিদের ছাড় দেওয়া হবে না। পুষ্পা বলেছিল ঝুঁকেগা নেহি। একই পরিণতি নয়দার বিধায়কেরও হবে। যদি ভাষা ঠিক না করে।"