
সিপিআই(এম) নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ মুখ কাপড়ে ঢেকে এবং মোটরবাইকের নম্বর প্লেট আড়াল করে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর বাড়ির সামনে আসে। এরপর মদের বোতল ছুড়ে বাড়ির একাধিক জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ভাঙা বোতলের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির সামনের রাস্তাতেও। আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেয়। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাড়ির বাসিন্দারা। অল্পের জন্য তাঁর বাড়ির এক সহায়িকা রক্ষা পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ঘটনার পরই পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে যথাযথ তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। আর এই হামলার ঘটনায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথাও বলেছেন বলে জানান মমতা।
X- পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, 'বারুইপুর আদালত, ব্যাঙ্কশাল আদালত, চন্দননগর এবং শালবনির পর আজ আরও একটি নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল। এবার ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে। ভিডিও ফুটেজ থেকে স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি হামলাকারীদের কতটা ঔদ্ধত্য রয়েছে। আইনজীবী সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমাগত এ ধরনের হামলার আমি তীব্র নিন্দা জানাই।'
মমতা আরও লেখেন, 'এটা সত্য যে গত ১৫ বছরে বিকাশদা এবং আমরা প্রায়শই আদর্শগত ও আইনি অবস্থানের দিক থেকে ভিন্ন মেরুতে থেকেছি। তবে, শালীনতার সীমা কখনোই লঙ্ঘিত হয়নি। সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অথচ আজ সংসদ থেকে শুরু করে বিধানসভা, স্থানীয় সংস্থা কিংবা আদালত—সর্বত্রই ভিন্নমত বা প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে দমন করা হচ্ছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমার সংহতি প্রকাশের ভাষা হয়তো সীমিত, কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের ঐক্যের ডাক দিতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সংবিধান, বার (Bar), বেঞ্চ (Bench), রাজ্য এবং সর্বোপরি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি—আমাদের ভারতকে—আমাদের রক্ষা করতেই হবে।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্য দিয়ে জানান, 'গত পাঁচ মাসে ২৪৫৪টি ধর্ষণ, ৬০০টি খুন, ১৩,১১৪টি হত্যাচেষ্টা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর হামলার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে 'আইনশৃঙ্খলাহী', রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত নৈরাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে রাজ্যজুড়ে আদালতের আইনজীবীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এর একমাত্র প্রতিকার হিসেবে রয়েছে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।'
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে একাধিক বিষয় নিয়ে বার বার আদালতের মামলা লড়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য৷ সেই সময় প্রকাশ্য জনসভায় মমতাকে বিকাশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিতেও দেখা গিয়েছিল৷ বলেছিলেন, 'বিকাশবাবুরা মুখে বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরে হাজার হাজার যুবকের চাকরি খাচ্ছেন। এঁরা চাকরি দেওয়ার মুরোদ রাখেন না, শুধু চাকরি কেড়ে নিতে জানেন। এঁরা হলেন খাঁটি চাকরিখেকো।' অতীতে সিপিআইএম জমানার ফাইল খোলা নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন মমতা৷ আজ সেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যেরই পাশে দাঁড়ালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী৷