
নিজেরই দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার জেরে বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। সেই ঋতব্রতর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, 'আগে সিপিআইএম করত। আমাদের ভুল হয়েছিল তাঁকে টিকিট দেওয়া।'
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নাম না করে মমতা বলেন, 'যাঁরা গদ্দারি করছেন আমাদের টিকিটে জিতে। সাধারণ মানুষকে বলছি, তাঁদের চিনে রাখুন। ভয় দেখালে ভয় পাবেন না। খুব বেশি হলে এক মাস জেলে ভরে রাখবে। তারপর আপনি তো ফ্রিবার্ড। এমন একজন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি নীতিহীন। এমন একজন মানুষ যে সিপিএম করত। আমার কাছে পায়ে এসে ধরেছিল। তাই টিকিট দিয়েছিলাম। সেদিন সিপিএম তাঁকে তাড়িয়ে ঠিক করেছিল। এই ব্যাপারে সিপিএম যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটাকে সমর্থন করি। কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তাঁর ছিল না। তারপরও দুবার জিতেয়েছি। অন্য লোকের টিকিট কেটে তাঁকে আমরা হাওড়াতে দাঁড় করিয়েছিলাম। তিনি আজ জ্ঞান দিচ্ছেন। সেজন্য আমি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।'
ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে- জানিয়ে মমতা নাম না করে এক দলীয় সাংসদকেও আক্রমণ করেন। দাবি করেন, এই বিধায়করা দল ভাঙানোর চেষ্টা করছেন। বলেন, 'এক সাংসদও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাঁর রাগ হল ছেলেকে টিকিট দেওয়া হয়নি। আমি একজন বিধায়ক আর অভিষেক একজন সাংসদ। আমার পরিবারে ৫০ জন মেম্বার রয়েছে। আপনি দলের বিরোধিতা করছেন আজ। অথচ আমাদের দলেরই টিকিটে বহুদিনের সাংসদ। আপনি যদি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নেন তাহলে দল কী করবে?' রাজনৈতিক মহলের দাবি, ওই সাংসদ বলতে বারাসতের কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লক্ষ্য করেছেন মমতা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার ফের নিন্দা করেন তিনি। দাবি করেন, অভিষেক অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন। সেদিন অভিষেকের প্রাণ যেতে পারত। হেলমেট তাঁকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। বিজেপি পরিকল্পনা করে এই হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন মমতা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'অভিষেককে সেদিন প্রাণে মারার চক্রান্ত করা হয়েছিল। ও হেলমেট পরেছিল বলে বেঁচে যায়। বিজেপি আগে থেকে সেখানে বাইরের লোক এনেছিল। তাদের খাবার-টাকা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের সামনেই সবটা হয়েছে। এর জবাব মানুষ দেবে।'