
বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার আগে আগামী ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে একটি নিম্নচাপ। যেটি তৈরি হওয়ার পর পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। এরপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলবর্তী অংশে প্রভাব ফেলতে শুরু করবে। আগামী ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো। তবে কি এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব লক্ষ্মীপুজোতে পড়বে?
লেটেস্ট আবহাওয়ার বুলেটিন জানাচ্ছে, উত্তর আন্দামান সাগরের উপরিভাগে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এটি ক্রমশ পশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। উত্তর আন্দামান সাগরেই ২২ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত থাকবে ঘূর্ণাবর্তটি।
এরপর ঘূর্ণাবর্তটি আরও এগিয়ে পশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিকে যাবে। এর প্রভাবেই ২৩ অক্টোবর নিম্নচাপ তৈরি হবে দক্ষিণ পূর্ব এবং সংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে।
এই ওয়েদার সিস্টেম আরও এগিয়ে পশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিকে এগোবে। আরও শক্তিশালী হবে সেটি। যদিও উপকূলবর্তী অঞ্চলে এর প্রভাব কতটা পড়বে, কতটা শক্তিশালী এর রূপ হবে, এখনও স্পষ্ট নয়।
যদিও অনুমান করা যাচ্ছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব থাকবে লক্ষ্মীপুজোর দিন অর্থাৎ ২৫ব অক্টোবরেও। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্দ্রতাও তৈরি করবে যথেষ্ট পরিমাণে। ঝোড়ো হাওয়া বইবারও পূর্বাভাস রয়েছে। বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দফতর এ-ও জানিয়েছে, যদি এই ওয়েদার সিস্টেম এভাবেই অগ্রসর হয় এবং নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, সেক্ষেত্রে একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ও আছড়ে পড়তে পারে। তবে কেবলমাত্র নিম্নচাপের পূর্বাভাস সাইক্লোন তৈরির জন্য যথেষ্ট নয়। তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে লক্ষ্মীপুজোর সময়ে এর প্রভাব ভাল মতোই পড়বে বাংলায়। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য স্পষ্ট করেনি হাওয়া অফিস।
উল্লেখ্য, বর্ষা শেষে বঙ্গোপসাগরে প্রায়শই সাইক্লোনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সাইক্লোন তৈরি হয়। সমুদ্রের উষ্ণ জল এবং উপযুক্ত ওয়েদার সিস্টেম ঘূর্ণিঝড় তৈরির পটভূমি গড়ে দেয় এই সময়ে।
এই ঘূর্ণাবর্ত শক্তিশালী হলে উপকূলীয় অংশে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টি হবে। ঝোড়ো হাওয়া বইবে। সমুদ্রও উত্তাল হবে। আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এর জেরে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা।
তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল সম্ভাব্য কোন স্থান হতে পারে এবং আদৌ ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে কিছু জানায়নি আবহাওয়া দফতর। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মীপুজোর সময়ে।