
Dengue Situation 2026: রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য দফতরে বৈঠকে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু জানান, সেপ্টেম্বর মাসকে ডেঙ্গি সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩, ৪ এবং ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ সাফাই অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, নির্মাণকাজ চলা বিভিন্ন এলাকায় যাতে জল জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জমা জলেই মশার বংশবিস্তার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নির্মাণস্থল থেকে শুরু করে পুরসভা এবং কেএমডিএ-র আওতাধীন এলাকায় বিশেষ ভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দু’দিনের বেশি জ্বর হলে পরীক্ষা, পর্যাপ্ত কিট
ডেঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামান্য জ্বরকে অবহেলা না করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে কারও জ্বর দু’দিনের বেশি থাকলে দ্রুত ডেঙ্গি পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ডেঙ্গি পরীক্ষার জন্য রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে যাঁরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গি আক্রান্ত কম: মুখ্যমন্ত্রী
বৈঠকের পর ডেঙ্গির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কম। গত বছর এই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি ছিল বলে জানান তিনি। এ বছর সেই সংখ্যা ৪ হাজারের কিছু বেশি।
এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গি পজ়িটিভ রোগী রয়েছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কম। তবে কিছু এলাকায় একসঙ্গে একাধিক ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। নদিয়ার চাকদহে বেশ কয়েক জন আক্রান্ত রয়েছেন। কলকাতা পুরসভার ১২টি ওয়ার্ডেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ডেঙ্গু নিয়ে বেশ 'প্রোঅ্যাকটিভ' মোডে রয়েছে রাজ্য সরকার। আগামিদিনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তার প্রভাব কতটা পড়ে, সেটাই দেখার।