
কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। ফলত এবার থেকে মিড ডে মিলে আর ডিম পাবে না পড়ুয়ারা। বদলে দেওয়া হবে প্রোটিনযুক্ত নিরামিষ খাবার। এই নিয়ে এবার তোপ দাগলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন। তাঁর কটাক্ষ, 'গুজরাত জিমখানা নিজেদের চরিত্র চেনাতে শুরু করেছে।'
ডেরেকের কটাক্ষ
তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ এক্স পোস্ট করে লেখেন, 'নির্বাচনী প্রচারে মাছ খেয়ে তামাশা করার পর গুজরাত জিমখানা নিজেদের চরিত্র বুঝিয়ে দিচ্ছে। বাংলায় কাজ করা শুরু করে দিয়েছে BJP। বিপক্ষের দিকে ডিম ছুড়ছে আর পুষ্টি থেকে বাচ্চাদের বঞ্চিত করছে। মিড ডে মিল থেকে ডিম উধাও। নিরামিষভোজী করতে চাইছে রাজ্য। বাংলা এটা মানছে না।'
মাছ-মাংসে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মমতার অভিযোগ
ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রচার পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের প্রার্থীরা একাধিকবার অভিযোগ তুলেছিলেন, BJP ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খেতে দেবে না। গুজরাতের মতো এ রাজ্যেও বন্ধ করে দেবে আমিষ খাবার।
পাল্টা মাছ খেয়ে BJP-র প্রচার
মমতার এই অভিযোগের পাল্টা BJP নেতারাও ঢালাও প্রচার করেন মাছ নিয়ে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রার্থীদের দেখা যায় কেউ বাজারে গিয়ে মাছ কিনছেন, তো কেউ আবার মাছ-ভাত খাচ্ছেন কব্জি ডুবিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভ্রান্ত প্রচার করছেন বলে সে সময়ে দাবি করেছিলেন BJP প্রার্থীরা। এমনকী, জয়ের পর প্রথমবার বিধানসভা পা রেখেই তাপস রায়ের উদ্যোগে সমস্ত বিধায়কদে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়।
মিড ডে মিল থেকে ডিম বাদ
কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলির জন্য মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার কথা ঘোষণা হতেই ডিম বাদ যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইসকনের কিচেনে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার তৈরি করা হয়। সেক্ষেত্রে মিড ডে মিলে আর ডিম মিলবে না। কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা মুখপাত্র রাধারমন দাস বলেন, 'আমরা ভাত-ডাল, সমস্ত রকমের পুষ্টিকর সবজি, সোয়াবিন, পনির, রাজমা দেব বাচ্চাদের। প্রত্যেকদিনের প্রোটিন এবং ভিটামিনের মাত্রা বজায় রেখেই আমরা মেনু ঠিক করব।' প্রশ্ন উঠছে, কলকাতার পড়ুয়ারা তো প্রাণিজ প্রোটিন পেতে চাইবে। সেক্ষেত্রে নিরামিষ খাবার কি ডিম ও মাংসের বিকল্প হবে? রাধারম দাস বলেন, 'ইসকন গ্যারান্টি দিচ্ছি, ডিম ও মাংসে যা প্রোটিন আছে, সেই অনুযায়ীই আমরা নিরামিষ খাবারের মেনু ঠিক করব।'
এই নিয়েই এবার চূড়ান্ত কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় আসতে না আসতেই মাছ খাওয়ার তামাশা ভুলে মিড ডে মিল থেকে ডিম বাদ দিয়ে রাজ্যকে নিরামিষভোজী করার মতলব গেরুয়া শিবিরের।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কলকাতার স্কুলগুলির জন্য মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। তারাই খাওয়াবে। খেয়ে দেখুন গুণমানে ভাল। আপনার ইচ্ছা না হলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।'