
তৈরি হল পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি। যার দায়িত্ব পেলেন রুদ্রনীল ঘোষ। পরম্পরা লক্ষা করাটাই মূল উদ্দেশ্য এই কমিটির, এমনটাই জানালেন বিধায়ক। শুধুমাত্র বড় বড় পুজো এবং কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দুর্গাপুজো করার জন্য সুবিধা অসুবিধা জানানোর জন্য জেলার কমিটিগুলিরও একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন। নয়া দায়িত্ব পাওয়ার পর দুর্গাপুজো নিয়ে কী কী গাইডলাইনের কথা ভাবছেন রুদ্রনীল?
ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের ক্ষমতা রইল না?
সমন্বয় কমিটি তৈরি হল বলে কি ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না? তারা আর ইস্যু করবে না পুজো পাস? সোজাসুজি উত্তর না দিলেও বড় ইঙ্গিত দিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, 'প্রীতম সরকার, তমগ্ন ঘোষ, অনুপম ভট্টাচার্য, প্রসেনজিত সাহার মতো মানুষেরা এই সমন্বয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। সাবেকী পুজোগুলি যেন কোনঠাসা হয়, সেই পরম্পরা বজায় রাখার বিষয়গুলি আমাদের এই কমিটি দেখবে। যদি কেউ সহযোগিতা করেন, তাহলে স্রোতের সঙ্গে চলতে পারবেন।'
গাইডলাইন কী কী হবে?
দিকনির্দেশ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি বলেন, 'সরকার যে গাইডলাইন দিচ্ছেন, সেটা মেনে চলা, এই সমন্বয় রক্ষা করাই আমাদের কাজ হবে। ইতিমত্যেই পুজো কমিটিগুলি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একটা ডিসিপ্লিন, সিলেবাসের মধ্যে চলতে পারে যাতে সকলে, সেটাই চেষ্টা করব আমরা।'
তৃণমূল জমানায় দুর্গাপুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে সরকারের সমন্বয়ের রাশ ছিল ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর হাতে। রাজ্যে পালাবদলের পরে সেই দাপট যে এবার কমতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পশ্চিমবঙ্গ দুর্গাপূজা সমন্বয় সমিতির মুখ্য উপদেষ্টা রুদ্রনীল ঘোষ, যিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তথ্য ও সংস্কৃতি স্থায়ী সমিতির চেয়ারম্যানও, পুজো উদ্যোক্তাদের এক ছাতার তলায় আনতে চাইছেন কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব ছাড়া।
অন্যদিকে, অস্তিত্ব সঙ্কটে ভোগা 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব' আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে এই নতুন সমিতি যে অচিরেই ফোরামের জায়গা নিতে চলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সকলেই। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ না ঘটনায় নতুন এই সমন্বয় কমিটির ভূমিকা এবারের পুজোয় ঠিক কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।