
ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পর শিয়ালদা ডিভিশনের একাধিক শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়া কোনও নতুন ঘটনা নয়। জোরে হাওয়া দিলেই নানা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ওভারহেডের তারে। যার জেরে তার ছিঁড়ে ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। ফলে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েন। এবার সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিল শিয়ালদা ডিভিশন।
সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। রেল লাইনের পাশে গাছের ডালপালা এমনভাবে ছাঁটতে হবে যাতে কোনও গাছ যদি রেললাইনের দিকে ভেঙেও পড়ে, তবুও লাইনের সঙ্গে তার ডালপালার দূরত্ব যেন অন্তত ৩ মিটার বজায় থাকে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এই বাফার জোন (নিরাপদ দূরত্ব) বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, রেললাইনের পাশে বিপজ্জনক গাছগুলির একটি বড় অংশই রেললাইনের সংলগ্ন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে রয়েছে। বিষয়টির দিকে নজর গিয়ে পূর্ব রেল জানাচ্ছে, এই জোনে ২৬,৫০৯টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার একটি বড়সড় প্রাক-বর্ষা অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে ২১,৩৮৪টি গাছ সাফল্যের সঙ্গে কেটে ফেলা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জমির আইনি ও অন্যান্য জটিলতার কারণে বাকি কাজ থমকে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিয়ালদা ডিভিশনে আগামী ৭ জুনের ডেডলাইনের মধ্যে যে ৭৩৫টি বিপজ্জনক গাছ কাটার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার মধ্যে ৩৫১টি গাছ ব্যক্তিগত জমিতে অবস্থিত। রেল প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই সমস্ত জমির মালিকদের আইনি নোটিশ পাঠাচ্ছে, তবে বর্ষা পুরোদমে নামার আগে জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আসানসোল, হাওড়া এবং মালদা ডিভিশনেও জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবাদ ও যাতায়াতের সীমাবদ্ধতার কারণে চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার কাজ ধীরগতিতে চলছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শ্রী শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, "আমরা রেললাইনের ধারে বসবাসকারী নাগরিকদের কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি যে, দয়া করে আপনারা আপনাদের সম্পত্তি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ৩ মিটারের বাধ্যতামূলক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম আপনাদের কাছে পৌঁছালে তাদের সহযোগিতা করুন। "