
ফের কলকাতায় ইডি হানা। এবার ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগে কলকাতা জোন-১-এর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ১১টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। কোহিনুর পাওয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে একটি মামলাতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে খবর।
অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করছিল সংস্থা। সেই মতো বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিল তারা। কিন্তু সেই ঋণের বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য গোষ্ঠীর সংস্থায় সরিয়ে দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করা হয়।
এখানেই শেষ নয়, পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি এনসিএলটি-তে চলে যায়। লিকুইডেশনের মাধ্যমে মাত্র ৭ কোটি টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ফলে ঋণদাতা ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য পাওনাদারদের বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে এই ঘটনায় তল্লাশি শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি-এর এই তল্লাশি অভিযানে এই গোষ্ঠীর প্রোমোটার প্রশান্ত বোথরা ও বিজয় বোথরা, অন্যান্য ডিরেক্টর এবং অডিটরদের বাড়ি ও অফিস সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যদিও সেখান থেকে এখনও কোনও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে কি না, সেটা জানা যায়নি।
২ সেপ্টেম্বরও ইডি হানার খবর
বুধবার সকালেও কলকাতায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণির এক বিল্ডিংয়ে ইডি হানা দেয়। যতদূর খবর, পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১৪টি জায়গায় একই সময় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।
এই অভিযান চলেছে টোল প্লাজায় দুর্নীতির অভিযোগে। এই অভিযোগ দায়ের করা হয় উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। সেই অভিযোগের তদন্তে নামে ইডি। সেই মতো কলকাতাতেও অভিযান চালানো হয়।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশির সময় শেক্সপিয়ার সরণি এলাকার এক ব্যবসায়ীর অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাড়ি ঘিরে রাখে। দীর্ঘক্ষণ সেখানে তল্লাশি চলে। তারপর সেখান থেকে আধিকারিকরা বেরিয়ে যান।
যদিও কেন এই তল্লাশির ফলে কী কী তথ্য অভিযান পাওয়া গিয়েছে, সেই সম্পর্কে এখনও কিছুই জানা যায়নি। তবে বুধবারের পর আবার বৃহস্পতিবারও অভিযান চালাচ্ছে ইডি। এখন দেখার এখান ঠিক কী কী পাওয়া যায়।